বাংলাদেশে শিশু যৌন সহিংসতা ও ওসিসি সেবা সংকট নিয়ে উদ্বেগ
২০২৫ সালে বাংলাদেশে শিশু যৌন সহিংসতার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) সেবাগ্রহীতাদের বড় একটি অংশ শিশু হলেও কেন্দ্রটিতে রয়েছে নানা operational চ্যালেঞ্জ।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

২০২৫ সালে বাংলাদেশে শিশু যৌন সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশের যৌন সহিংসতার শিকার হওয়া ভুক্তভোগীদের মধ্যে নারীর তুলনায় শিশুর সংখ্যা ৬১ শতাংশ বেশি। এই সময়ের মধ্যে মোট ৪৩১ জন যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ২৬৪ জনই শিশু। এর আগে ২০২৫ সালের একই সময়ে যৌন হয়রানির শিকার নারীর সংখ্যা ছিল ১৩০ জন এবং শিশু ২৬৯ জন। সাম্প্রতিক সময়ে যৌন নির্যাতনের শিকারদের মধ্যে শিশুদের হার ৫০ শতাংশের বেশি বলে জানা গেছে।
এই পরিস্থিতিতে রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে গত সাত মাসে প্রায় ৩২৫ জন ভুক্তভোগীকে সেবা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৪৫০ জন ভুক্তভোগী বহির্বিভাগে সেবা নিয়েছেন। তবে চিকিৎসাসেবা প্রদ对象的 ক্ষেত্রে কিছু সামাজিক ও পারিবারিক বাধার মুখে পড়তে হয়।
এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডা. তাইয়েবা সুলতানা জানান, গত সাত মাসে তারা প্রায় ৩২৫ জন ভুক্তভোগীকে সেবা দিয়েছেন। এছাড়া প্রায় ৪৫০ জন বহির্বিভাগে সেবা নিয়েছেন। তাদের অনেকের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন থাকলেও পরিবার ভর্তি করায় নি। তিনি আরও বলেন, শিশুদের যৌন নির্যাতনের ক্ষেত্রে বাবা-মা ও শিশুকে চিকিৎসার পাশাপাশি মনোসামাজিক কাউন্সেলিং দেওয়া প্রয়োজন।
বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে সীমিত পরিসরে হলেও জরুরি সেবা কার্যক্রম চালু রয়েছে। ওসিসিতে বর্তমানে পাঁচ জন ভুক্তভোগী সেবা নিচ্ছেন। এই পাঁচজনের মধ্যে তিন জনের বয়স ১৪ বছরের নিচে এবং বাকি দু দুজনের বয়স মাত্র পাঁচ বছর। এই পরিসংখ্যান থেকে শিশুদের ওপর নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সারع দেশজুড়ে ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে ব্যাপক সেবা প্রদান করা হয়েছে। ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৮১ হাজার ৯২৮ জনকে সেবা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৪৯ হাজার ৭৬৭ জন এবং যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩১ হাজার ৫৯৬ জন। এছাড়া অগ্নিদগ্ধ ৫৬৫ জন ভুক্তভোগীও এই কেন্দ্র থেকে সেবা পেয়েছেন।
নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং ওসিসির কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে সমাজ ও পরিবারের সচেতনতা জরুরি। ড্যানিশ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (ডানিডার) সহযোগিতায় এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা যেমন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শারমীন এস মুরশিদ, মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন, শিরীন পারভীন হক ও ডা. ফওজিয়া মোসলেমের মতো ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সংকট উত্তরণের পথ খোঁজা হচ্ছে।








