বাংলাদেশে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ওষুধ খাত বেসরকারীকরণের উদ্যোগ
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ওষুধ খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে বেসরকারীকরণের দিকে নিয়ে যাচ্ছে সরকার। এর অংশL হিসেবে জ্বালানি আমদানি ও বিতরণ বেসরকারি কোম্পানির জন্য উন্মুক্ত করার নীতি প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ওষুধের মূল্যনিয়ন্ত্রণ কমিয়ে আনা হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ওষুধ খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে বেসরকারীকরণের দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ১৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সরকার এই খাতগুলোতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ঐতিহাসিকভাবে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের কাজ চলছে।
জ্বালানি খাতের ইতিহাসে দেখা যায়, জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এবং ১৯৭৭ সালে গ্রামীণ বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনার মূল দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই কাঠামোর মধ্যে পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ আগস্ট এনার্জি অ্যান্ড মিনারেল রিসোর্সেস ডিভিশন (ইএমআরডি) বিপিসিকে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি ও বিতরণ বেসরকারি কোম্পানির কাছে উন্মুক্ত করার জন্য একটি নীতি খসড়া তৈরির নির্দেশ দেয়। এর আগে গত ২১ জুলাই বিপিসির একটি ১১ সদস্যের কমিটি জ্বালানি আমদানি বেসরকারীকরণের বিরুদ্ধে সুপারিশ করেছিল। ওই সুপারিশের পর বিপিসির চেয়ারম্যান রেজানুর রহমানকে অপসারণ করে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়।
জ্বালানি খাতের পাশাপাশি ওষুধ খাতেও বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ৩ আগস্ট মন্ত্রিসভা ২৯৫টি মূল্যনিয়ন্ত্রিত নিত্যপ্রয়োজনীয় ওষুধের বর্ধিত তালিকা বাতিল করে। এর ফলে সরকার ১৯৯৪ সালের ১শ ১৭টি ওষুধের পূর্বের তালিকায় ফিরে গেছে, যা ওষুধ খাতের মূল্য ব্যবস্থাপনায় একটি বড় পরিবর্তন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বেসরকারীকরণের এই পদক্ষেপে সরকারের শীর্ষ নীতি নির্ধারণী মহল থেকে বিভিন্ন নির্দেশনা আসছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সরকারের এই নীতির উদ্দেশ্য হলো বাজার ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানো। এই প্রেক্ষাপটে জ্বালানি মন্ত্রী মন্তব্য করেছেন যে, 'privatise all our distribution companies'।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ওষুধ খাতের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে এই বেসরকারীকরণের উদ্যোগ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিতে বেসরকারি কোম্পানির প্রবেশ এবং ওষুধের মূল্যনিয়ন্ত্রণ হ্রাসের ফলে বাজার পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।








