বাংলাদেশের আদিবাসী সম্প্রদায়ের জীবন ও সংস্কৃতির পরিচিতি
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গারো, ওঁরাও, খাসি, ম্রো ও সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। এদের রয়েছে নিজস্ব ভাষা, ঐতিহ্যবাহী পেশা এবং নানা উৎসব।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির অধিকারী একাধিক আদিবাসী সম্প্রদায় বসবাস করে আসছে। দেশের বিভিন্নপ্রান্তে ছড়িয়ে থাকা এসব জনগোষ্ঠীর রয়েছে নিজস্ব জীবনধারা, ভাষা এবং স্বতন্ত্র ঐতিহ্য। গারো, ওঁরাও, খাসি, ম্রো এবং সাঁওতাল—এই সম্প্রদায়গুলোর প্রতিটিই তাদের স্ব স্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতির মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক জনপদকে সমৃদ্ধ করেছে।
ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও টাঙ্গাইল জেলায় গারো সম্প্রদায়ের মানুষ বাস করে। গারো জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষার নাম আচিক। এই সম্প্রদায়ের মানুষের জীবনযাত্রায় ও সংস্কৃতিতে নানা বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়। তাদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো তাদের প্রধান উৎসব, যা ওয়ানগালা নামে পরিচিত।
ওঁরাও জনগোষ্ঠীর বেশির ভাগ মানুষ দেশের উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলে বসবাস করে। এই জনগোষ্ঠীর মানুষের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতি ওই অঞ্চলের জনপদের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। ওঁরাও সম্প্রদায়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে তাদের প্রধান উৎসব, যা কারামা নামে পরিচিত।
সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় খাসি সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করে। খাসিরা পান চাষে বিশেষভাবে পরিচিত। পাহাড়ি বা জঙ্গলঘেরা এলাকায় তাদের এই পান চাষের ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। খাসি সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রধান উৎসব হলো ‘খাসি সেং কুটস্লেম’ বা বর্ষবিদায়, যা তারা অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে পালন করে থাকে।
ম্রো জনগোষ্ঠী প্রধানত বান্দরবান জেলায় বসবাস করে। পাহাড়ি অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে ম্রোদের জীবনযাত্রা গড়ে উঠেছে। তাদের প্রধান পেশা জুমচাষ। পাহাড়ের ঢালে জুম পদ্ধতিতে চাষাবাদ করেই তাদের জীবিকা নির্বাহ হয়। তাছাড়া, তাদের নিজস্ব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রধান উৎসব হলো চাংক্রান।
সাঁওতালরা উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুর, রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় বাস করে। এই অঞ্চলের জনজীবনে সাঁওতালরা তাদের দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রেখে চলেছে। সাঁওতাল সম্প্রদায়ের প্রধান উৎসব হলো সোহরাই, যা তাদের আনন্দ ও উদযাপনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম।








