বাংলাদেশি গবেষকদের অন্তত ৩২৫ গবেষণা প্রবন্ধ প্রত্যাহার
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জার্নাল থেকে ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশি গবেষকদের অন্তত ৩২৫টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ডাটা জালিয়াতি, ব্যাপক জালিয়াতি ও পিয়ার রিভিউ কারচুপির মতো কারণে এই প্রবন্ধগুলো বাতিল করা হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:১৩ · ১ মিনিট পড়া
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জার্নাল থেকে বাংলাদেশি গবেষকদের অন্তত ৩২৫টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে এই প্রবন্ধগুলো প্রত্যাহার করা হয় বলে জানা গেছে। এই চাঞ্চল্যকর বিষয়টি নিয়ে দেশের শিক্ষা ও গবেষণা অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
দ্য ডেইলি স্টার এবং রিট্র্যাকশন ওয়াচ-এর তথ্যানুযায়ী, প্রত্যাহার করা এসব গবেষণাপত্রের মধ্যে ন্যানোমডিসিন, ক্যানসার এবং পরিবেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ক্ষেত্রগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিজ্ঞান ও চিকিৎসার মতো খাতের গবেষণায় এ ধরনের ঘটনা দেশের গবেষণার মান নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।
এই গবেষণাগুলো কেবল একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্বনামধন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরাও এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
কী কারণে আন্তর্জাতিক জার্নালগুলো থেকে এত বিপুল সংখ্যক গবেষণা প্রবন্ধ প্রত্যাহার করা হলো, তা খতিয়ে দেখা গেছে। প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ডাটা জালিয়াতি বা উপাত্তের কারসাজি, ব্যাপক ভিত্তিক চৌর্যবৃত্তি বা প্লেজিয়ারিজম এবং পিয়ার রিভিউ প্রক্রিয়ায় কারচুপি।
এছাড়াও, একই গবেষণা প্রবন্ধ একাধিক স্থানে জমা দেওয়া বা ডুপ্লিকেট সাবমিশন এবং বাণিজ্যিক পেপার মিলের অপতৎপরতাও এসব প্রবন্ধ প্রত্যাহারের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের গবেষকদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।
বাংলাদেশি গবেষকদের এমন ব্যাপক হারে গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কঠোর নজরদারির মুখে পড়েছে। ভুয়া গবেষণা ও বাণিজ্যিক পেপার মিলের দৌরাত্ম্য বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ অনুভব করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
তথ্যসূত্র: Daily Star
আপনার প্রতিক্রিয়া