বরগুনায় সরকারি বাসভবনে রাতেও বিদ্যুৎ অপচয় ও লোডশেডিং
সারাদেশে লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের কঠোর নির্দেশনা থাকলেও বরগুনায় সরকারি অফিস ও বাসভবনে সারারাত বাতি জ্বালিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে রাত আটটার মধ্যে দোকানপাট বন্ধের নির্দেশনার কারণে লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

দেশজুড়ে চলমান লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে সরকারের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। অথচ বরগুনা জেলায় সরকারি বিভিন্ন অফিস এবং সরকারি কর্মকর্তাদের বাসভবনে রাতের পর রাত সাজসজ্জা ও বহিরাংশে বাতি জ্বালিয়ে রাখার ঘটনা ঘটছে। সরকারের নির্দেশ অমান্য করে এমন বিদ্যুৎ অপচয়ের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বরগুনার জেলা ও দায়রা জ আদালত, জেলা প্রশাসক কার্যালয়, সিভিল সার্জন কার্যালয়, গণপূর্ত বিভাগ, সার্কিট হাউস এবং মায়া কুঞ্জসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও বিচারকদের বাসভবনে রাতের বেলাতেও আলোকসজ্জা ও বহিরাংশের বাতি জ্বালিয়ে রাখা হয়। অথচ বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা অত্যন্ত জরুরি বলে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বরগুনার ব্যবসায়ীদের জন্য সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনার কারণে জেলার বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন এবং ক্ষতির মুখে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন।
গার্মেন্টস ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ী মো. ফেরদৌস এই নির্দেশনার ফলে তাদের কষ্টের কথা তুলে ধরে জানান, পোশাক কিনতে বেশিরভাগ ক্রেতারা আসেন সন্ধ্যার পর। সারাদিন কাজ করে যখন ক্রেতারা আসেন তখন আমাদের দোকান বন্ধ করার সময় হয়ে যায়। এমনিতেই বৃষ্টির মৌসুমে ক্রেতা কম, তারপর আবার এখন সময়ের বাধ্যবাধকতায় মারাত্মক লোকসানের মুখে পড়েছি আমরা।
আরেক ব্যবসায়ী লাটিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গার্মেন্টস পট্টির দোকানের মাত্রাতিরিক্ত মাসিক ভাড়া নেন মালিকরা। এমনিতেই বিক্রি কম তারপর আবার রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধ করতে হয়। বিভিন্ন জায়গায় দেখি বিদ্যুৎ অপচয় হয়। আর যত বিধিনিষেধ আমাদের জন্য। এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আমিনুর রহমান জানান, এটা আমার জানা নেই।
বর্তমানে বরগুনা জেলায় বিদ্যুতের তীব্র ঘাটতি বিরাজ করছে। বরগুনা পৌর এলাকায় ১৯ হাজার ডব্লিউজেডপিডিআরও (ওজোপাডিকো) গ্রাহকের জন্য সাড়ে ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদা রয়েছে এবং ছয়টি উপজেলায় গ্রামীণ বিদ্যুতের চাহিদা ৫৭ মেগাওয়াট। সব মিলিয়ে মোট ৬৩.৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এমন সংকটের মধ্যেও সরকারি বাসভবন ও অফিসগুলোতে বিদ্যুৎ অপচয় অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে রাতের বেলায় বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও অপরাধ দমনে বরগুনা থানা পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাহাদৎ মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, দুই-একটি ছিনতাইয়ের মৌখিক খবর পেয়ে রাতে পুলিশি টহল জোরদার করেছি। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে আছে পুলিশ। এছাড়া এ ঘটনায় ফোরকান, বশির দফাদার, তাসলিমা আক্তার ও মুফতি রেজাউলসহ স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম আলোচিত হলেও বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে।








