ফেসবুকে এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া গ্রেপ্তারের ছবি ছড়ানোর প্রবণতা
ফেসবুকে সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ফেস-স্ব্যাপ অ্যাপ ব্যবহার করে নিজেদের গ্রেপ্তারের ভুয়া ছবি তৈরির প্রবণতা দেখা গেছে। আনন্দ বা রাজনৈতিক উপহাসের উদ্দেশ্যে তৈরি হলেও এসব ছবি অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি নতুন ট্রেন্ড বা প্রবণতা বেশ জোরালোভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এই প্রবণতার আওতায় ব্যবহারকারীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং বিভিন্ন তৃতীয় পক্ষের ফেস-স্ব্যাপ বা মুখ পরিবর্তনকারী অ্যাপ ব্যবহার করছেন। এসব প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে তারা এমন সব ছবি তৈরি করছেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে যে তারা কিংবা তাদের পরিচিত কেউ বাংলাদেশ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন অথবা প্রিজন ভ্যানের ভেতরে বসে আছেন।
এ ধরনের ছবি তৈরির পেছনে সাধারণ ব্যবহারকারীদের প্রধানত বিনোদন, সামাজিক কিংবা রাজনৈতিক উপহাসমূলক উদ্দেশ্য কাজ করে থাকে। অনেকেই নিছক মজার ছলে কিংবা রসিকতা করার জন্য নিজেদের মুখাবয়ব বসিয়ে এই ভুয়া গ্রেপ্তারের ছবিগুলো তৈরি করে ফেসবুকে আপলোড করছেন। তবে আপাতদৃষ্টিতে এগুলো নিছক রসিকতা মনে হলেও এর একটি বড় নেতিবাচক দিক রয়েছে, যা জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আনন্দ বা রাজনৈতিক উপহাসের উদ্দেশ্যে তৈরি এই ছবিগুলো খুব সহজেই অন্য কোনো কুচক্রী মহলের হাতে অপব্যবহারের শিকার হতে পারে। অনেকে এই ছবিগুলো সংগ্রহ করে নতুন এবং বিভ্রান্তিকর ক্যাপশন বা শিরোনাম জুড়ে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে পারেন। এর ফলে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে হেয়প্রতিপন্ন করা, তার মানহানি করা কিংবা সমাজে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার মতো ঘটনা ঘটার যথেষ্ট আশঙ্কা থাকে।
এ ছাড়া, এ ধরনের ছবির পেছনে রয়েছে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ও সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি। ভুয়া গ্রেপ্তারের এই ছবিগুলো তৈরি করার জন্য ব্যবহারকারীদের নিজেদের ব্যক্তিগত ছবি নানা ধরনের তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ এবং অনলাইন গেমসে আপলোড করতে হয়। কোনো রকম যাচাই-বাছাই বা নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে ব্যক্তিগত ছবি এই ধরনের থার্ড-পার্টি প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করার ফলে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য এবং গোপনীয়তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
তাই সাইবার নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করার স্বার্থে এ ধরনের অপ্রয়োজনীয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাপ বা গেমসের ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত। সামান্য বিনোদন বা সামাজিক উপহাসের উদ্দেশ্যে ফেসবুকে এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া গ্রেপ্তারের ছবি শেয়ার করার আগে এর দীর্ঘমেয়াদি অপব্যবহার ও ব্যক্তিগত ডাটা চুরির ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।








