প্রাণনাশের হুমকি ও ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার কোচ জেরার্ড জোনস
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলের প্রধান কোচের পদ থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ওপর চলা ব্যক্তিগত আক্রমণ ও প্রাণনাশের হুমকির কথা প্রকাশ করেছেন জেরার্ড জোনস। যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি বাফুফেতে নিজের কাজের পরিধি এবং দলগত ব্যর্থতার বিষয়টি তুলে ধরেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলের প্রধান কোচের পদ থেকে সম্প্রতি বরখাস্ত হয়েছেন জেরার্ড জোনস। এই বরখাস্তের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে এক দীর্ঘ বিবৃতি দিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত এই বিবৃতিতে জোনস জানিয়েছেন যে, চাকরি হারানোর পর থেকে তিনি তীব্র ব্যক্তিগত আক্রমণ, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস বা ডক্সিং এবং প্রাণনাশের হুমকির শিকার হচ্ছেন।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বা বাফুফে গত ৪ সেপ্টেম্বর জেরার্ড জোনসের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে। এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে টানা পরাজয়ের ঠিক পরপরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগের দিন সিরিয়ার বিপক্ষে দল ৩-০ গোলে পরাজিত হয়েছিল। তবে বাফুফের দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে চুক্তি বাতিলের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
বাফুফের একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, চুক্তি বাতিলের নেপথ্যে অন্য একটি ঘটনাও রয়েছে। গত ১৯ আগস্ট দলের হোটেল রুমে সহকারী কোচ আতিকুর রহমানের সঙ্গে জেরার্ড জোনসের একটি বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জোনস নিজেই জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করেছিলেন।
চাকরি হারানোর চার দিন পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটি থেকে ফেসবুকে দেওয়া দীর্ঘ বিবৃতিতে জেরার্ড জোনস লিখেছেন, ফুটবলের সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা করা ন্যায্য। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস এবং মেরে ফেলার হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, তিনি কিছু অত্যন্ত বাজে বার্তা পেয়েছেন এবং তার ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করা হয়েছে। নিজেকে একজন স্বামী, একজন বাবা এবং একজন সন্তান হিসেবে উল্লেখ করে তিনি এই পরিস্থিতির তীব্র প্রতিবাদ জানান।
প্রায় দুই দশকের কোচিং অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে জোনস জানান, তিনি বাংলাদেশে শুধু জাতীয় দলের ফলাফল নিয়ে কাজ করতে যাননি। তার যুব উন্নয়ন, কোচ তৈরি, প্রতিভা শনাক্তকরণ এবং প্রবাসী খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করার মতো বৃহত্তর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তিনি বলেন, সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সময় ছিল খুব কম এবং তিনি দলের সঙ্গে আনুমানিক ৯ সপ্তাহ কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন।
দলের পারফরম্যান্স প্রসঙ্গে জোনস উল্লেখ করেন, অনুশীলনে তারা যে ফুটবল তৈরি করেছিলেন, মাঠে সেটি ধারাবাহিকভাবে খেলতে পারেনি দল। দলটি তাদের প্রস্তুতির সময় যে নীতিগুলো তৈরি করেছিল, তার তুলনায় অনেকটাই অচেনা হয়ে গিয়েছিল। তবে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন যে, এই সময়ের কাজ ও অর্জন দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের ফলাফলে মুছে যাওয়ার নয়। বিশেষ করে সিরিয়ার বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের হারের প্রসঙ্গটিও এখানে চলে আসে।
ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা দিয়ে জোনস মন্তব্য করেন যে, এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে খেলোয়াড় বাছাই, অবকাঠামো, ফুটবল সংস্কৃতি ও উচ্চপর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরিতে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন। বাফুফে এবং এএফসি কাঠামোর অধীনে কাজ করতে গিয়ে তিনি এই অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।








