প্রথম বার্তা পাঠানোর নিয়ম পাল্টাচ্ছে ডেটিং অ্যাপ বাম্বল
প্রতিষ্ঠার পর থেকে চালু থাকা নারীদের প্রথম বার্তা পাঠানোর নিজস্ব নিয়মে বড় পরিবর্তন এনেছে ডেটিং অ্যাপ বাম্বল। ব্যবহারকারীদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

জনপ্রিয় ডেটিং অ্যাপ বাম্বল তাদের ঐতিহ্যবাহী ও পরিচিত নিয়ম পরিবর্তন করতে যাচ্ছে। এতদিন এই অ্যাপটিতে শুধুমাত্র নারীদেরই প্রথম বার্তা পাঠানোর নিয়ম ছিল, যা এবার তুলে নেওয়া হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে বহুল পরিচিত এই অ্যাপটি মূলত নারীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এই বিশেষ ফিচারটি চালু করেছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারকারীদের চাহিদার পরিবর্তন ঘটায় অ্যাপ কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
২০১৪ সালে হুইটনি ওলফ হার্ড এই ডেটিং অ্যাপটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে অ্যাপটির মূল পরিচিতি ছিল নারীদের প্রথম পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি। তবে সম্প্রতি পরিচালিত একটি ব্যবহারকারী জরিপে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সেই জরিপে দেখা গেছে যে, ৬ আধুনিক যুগে প্রায় ৬৬ শতাংশ নারীই চান যেন পুরুষরাই প্রথম বার্তাটি পাঠান। এই বাস্তবতার আলোকেই অ্যাপটির কার্যক্রমে এই বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
নতুন এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে শুধু প্রথম বার্তা পাঠানোর নিয়মই নয়, কথোপকথন শুরু করার সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। আগে ম্যাচ হওয়ার পর বার্তা পাঠানোর জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় নির্ধারিত থাকলেও, এখন তা বাড়িয়ে তিন দিন বা ৭২ ঘণ্টা করা হয়েছে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা আরও কিছুটা বাড়তি সময় পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা হুইটনি ওলফ হার্ড এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, নারীদের প্রথম পদক্ষেপ নেওয়াটা এক সময় একটি বৈপ্লবিক ধারণা ছিল, তবে নারী-প্রধান বা উইমেন-ফার্স্ট হওয়ার অর্থ কখনোই সংযোগ স্থাপনের জন্য কেবল একটি নির্দিষ্ট পথ নির্ধারণ করে দেওয়া ছিল না। তিনি আরও বলেন, আজ আমাদের সম্প্রদায় আরও বেশি নমনীয়তা, কম চাপ এবং বাস্তব ও অর্থপূর্ণ সংযোগ তৈরির জন্য আরও বেশি সুযোগ চাচ্ছে এবং এই নতুন অভিজ্ঞতা ঠিক সেটাই প্রদান করবে।
বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেটিং অ্যাপের বাজারে ব্যবহারকারীদের মধ্যে ক্লান্তি বাড়ছে। ডেটিং বিশেষজ্ঞ সারাহ লুইস রায়ান জানিয়েছেন, মানুষ এখন বুঝতে পারছে যে অবিরাম সোয়াইপ করা আদতে বাস্তব জীবনের ডেটিংয়ে কোনো ভূমিকা রাখছে না, যা ডেটিংয়ের ক্ষেত্রে ক্লান্তি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। বর্তমান ডিজিটাল ডেটিং সংস্কৃতির এই পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি অ্যাপগুলোর জনপ্রিয়তায়ও পড়ছে।
নিয়ম বদলের এই সিদ্ধান্তের পেছনে অ্যাপটির ব্যবহারকারী কমে যাওয়ার বিষয়টিও ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অফকমের অনলাইন নেশন প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে বাম্বলের মাসিক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০২৩ সালের প্রায় ১৫ লাখ থেকে কমে ২০২৫ সালে ১১ লাখে নেমে এসেছে। একই সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাপ হিংয়ের ব্যবহারকারী ১৫ লাখে স্থিতিশীল রয়েছে। উল্লেখ্য, এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে বাম্বল ইনক গত বছর তাদের বৈশ্বিক কর্মীবাহিনীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ কর্মী ছাঁটাই করেছিল।








