প্রথম কাস্টম এআই চিপ 'জালাপেনিও' তৈরি করল ওপেনএআই
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই চিপ নির্মাতা ব্রডকম ও সেলেস্টিকার সঙ্গে অংশীদারত্বে তাদের প্রথম কাস্টম এআই চিপ তৈরি করেছে। 'জালাপেনিও' নামের এই চিপটি দিয়ে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সীমিত পরিমাণে কাজ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই তাদের প্রথম কাস্টম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চিপ তৈরি করেছে। চিপ নির্মাতা ব্রডকমের সঙ্গে যৌথভাবে এই চিপটি তৈরি করা হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে 'জালাপেনিও'। মূলত নিজেদের প্রযুক্তির চাহিদা মেটাতে এবং এআই খাতের হার্ডওয়্যার উন্নয়নে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববাজারে এআই চিপের বাজারে আধিপত্য বিস্তারকারী প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার পাশাপাশি নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরিতে এটি ওপেনএআইয়ের একটি বড় পদক্ষেপ।
এই নতুন চিপ তৈরিতে একা ব্রডকম কাজ করেনি। চিপের বোর্ড, র্যাক সিস্টেম এবং সার্বিক উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার তৈরিতে কাজ করেছে সেলেস্টিকা। বিভিন্ন প্রযুক্তিগত অংশীদারের সমন্বয়ে তৈরি এই হার্ডওয়্যার কাঠামোর উন্নয়নকাজ শেষ করতে সময় লেগেছে মাত্র ৯ মাস। এত কম সময়ের মধ্যে একটি কাস্টম এআই চিপের উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করাকে প্রযুক্তি খাতের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তৈরির পর 'জালাপেনিও' চিপটির কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য বেশ কয়েকটি মডেলের মাধ্যমে পরীক্ষা চালানো হয়েছে। জিপিটি-ওএসএস–১২০বি, ডিপসিক আর–১ ও কিমি কে–২.৫ এই তিনটি মডেলের মাধ্যমে চিপটি পরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষার ফলাফলে চিপটির বেশ কিছু দুর্দান্ত কর্মক্ষমতা ও দক্ষতার দিক উন্মোচিত হয়েছে, যা এআই মডেল পরিচালনার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতি ওয়াট বিদ্যুতে এই চিপ ১ দশমিক ৫ থেকে ১ দশমিক ৯ গুণ বেশি এআই কাজ করতে পারে। এ ছাড়া এর সাড়া পাওয়ার সময় বা রেসপন্স টাইম ১ দশমিক ৭ থেকে ৩ দশমিক ৬ গুণ পর্যন্ত কমেছে। বিশেষ করে যেসব ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করতে হয়, সে ধরনের কাজে চিপটির কর্মক্ষমতা সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ১ গুণ পর্যন্ত বেশি পাওয়া গেছে।
ওপেনএআইয়ের এই কাস্টম চিপটির ব্যবহার নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সীমিত পরিমাণে জালাপেনিও চিপ ব্যবহার শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এরপর ধাপে ধাপে এর পরিধি বাড়ানো হবে এবং ২০২৭ সালে চিপটির ব্যবহার আরও বাড়ানো হবে বলে পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির কার্যকারিতা ও গতি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।








