পোশাকশিল্পের সংকটে অ্যাক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং খাতে স্থবিরতা
তৈরি পোশাক খাতের চলমান সংকটের কারণে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প হিসেবে পরিচিত গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং খাতে তীব্র ব্যবসায়িক স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি এবং ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার ফলে এই খাতের উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, দেশের অন্যতম প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত পোশাকশিল্পের নানামুখী সংকটের ঢেউ এখন এর ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রি গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং খাতেও এসে লেগেছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের ফলে তৈরি পোশাকের রপ্তানি আয় এবং নতুন কাজের আদেশ কমে যাওয়ায় সার্বিকভাবে এই সহায়ক খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
বাংলাদেশ প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএএমইএ) সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় পোশাকশিল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ উপকরণের চাহিদা পূরণে সম্পূর্ণ সক্ষম এই খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী এই ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প বর্তমানে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এই খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে সরাসরি বিভিন্ন দেশে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের পণ্য রপ্তানি করছে। পাশাপাশি, পোশাক খাতের মাধ্যমে পরোক্ষ রপ্তানির পরিধি বিবেচনা করলে এই খাতের সামগ্রিক রপ্তানি আয় ৭০০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিকে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রাখতে সহায়তা করছে।
বর্তমান এই ব্যবসায়িক সংকট ও স্থবিরতার বিষয়ে বাংলাদেশ প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএএমইএ)-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. শাহরিয়ার। তিনি এই খাতের সার্বিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেন, পোশাক কারখানায় ক্রয়াদেশ কমে গেলে উৎপাদন কমে যায়। এর সঙ্গে বোতাম, জিপার, লেবেল, প্যাকেজিংসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক উপকরণের চাহিদাও হ্রাস পায়। ফলে এসব উপকরণ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের বিক্রি, আয় ও উৎপাদন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের উদ্যোক্তারা নানামুখী আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। এ বিষয়ে বাদশা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রতিনিধি মো. সাইফুল ইসলাম সবুজ মন্তব্য করেছেন যে, অর্ডার কম থাকায় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধেও চাপ তৈরি হচ্ছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান যে, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু নতুন অর্ডার আসতে শুরু করায় পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির আশা করছেন উদ্যোক্তারা।
গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং খাতের এই সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে ইব্রাহীম হুসাইন অভি, আদিল ট্রিমস এবং এস এম আরিফুর রহমানের মতো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ও উদ্যোক্তারাও বিভিন্ন সময় তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, সামগ্রিক পোশাকশিল্পের চাকা সচল রাখার মাধ্যমেই কেবল এই ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতের স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সৃষ্ট এই স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে সংশ্লিষ্টরা নীতিনির্ধারক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। জাগো নিউজসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত এই সংবাদে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতের বর্তমান নাজুক চিত্র এবং এর সাথে জড়িত উদ্যোক্তাদের সংকট ও প্রত্যাশার কথা উঠে এসেছে।








