পার্বত্য চট্টগ্রামে জেএসএস ও ইউপিডিএফের সংঘর্ষ ও অস্ত্র প্রদর্শন
পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে আঞ্চলিক দল জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও সশস্ত্র মহড়ার ঘটনা ঘটেছে। খাগড়াছড়ির পানছড়ি ও মাটিরাঙ্গা এবং রাঙামাটির সাজেকে এসব ঘটনা ঘটে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলায় আঞ্চলিক দলগুলোর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র সংঘর্ষ ও মহড়ার ঘটনা ঘটেছে। গত ২০২৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি আঞ্চলিক সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-মূল) এবং ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-মূল)-এর মধ্যে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসা সংঘাতপূর্ণ এই অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ঘটনার ধারাবাহিকতায়, ২০২৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার চেঙ্গি ইউনিয়নের তারাবন এলাকায় জেএসএস (সন্তু) ও ইউপিডিএফ (প্রসীত)-এর মূল দলের সশস্ত্র ক্যাডারদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। বিবর্ণ চাকমার নেতৃত্বে জেএসএস-এর একটি দলে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন সদস্য এবং সুমেন চাকমার নেতৃত্বে ইউপিডিএফের একটি বাহিনীতে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ জন সদস্য অংশ নেয়। এই সশস্ত্র সংঘর্ষে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে গোলাগুলি চলে এবং প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ রাউন্ড অবিরাম গুলি বর্ষণের শব্দ শোনা যায়।
এর পরের দিন, অর্থাৎ ২০২৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি জেলার সাজেক এলাকায় ইউপিডিএফ (প্রসীত) এবং জেএসএস (সন্তু)-এর সশস্ত্র ক্যাডাররা অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্য অস্ত্র প্রদর্শন ও সশস্ত্র মহড়া চালায়। ওই সময়ে সাজেক এলাকায় ইউপিডিএফের প্রায় ৯০ জন এবং জেএসএস গ্রুপের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন সশস্ত্র ক্যাডার অংশ নেয়। আঞ্চলিক এই দুই পক্ষের এমন আকস্মিক সশস্ত্র মহড়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ভীতি ছড়িয়ে পড়ে।
একই সময়ে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার রিসং ঝরনা এলাকার আশপাশেও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেখানে ইউপিডিএফ (প্রসীত) উপদলের ক্যাডাররা উপস্থিত হয়ে ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। মাটিরাঙ্গার ওই ঘটনায় ১০ থেকে ১২ রাউন্ড এবং প্রায় ৩০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়া হয়। সব মিলিয়ে এই সংঘাতে ভারী অস্ত্রের অন্তত ৪০ থেকে ৪২ রাউন্ড গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই সংঘাত ও অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের স্থানীয় নেতাকর্মি ও ক্যাডারদের তৎপরতা দৃশ্যমান ছিল। এই ঘটনাগুলোতে এম মহাসিন মিয়া, বিবর্ণ চাকমা, সুমেন চাকমা, কহেন চাকমা, পরান্টু চাকমা, বিক্রম চাকমা এবং মুচং চাকমার নামও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোতে উঠে এসেছে। তবে আঞ্চলিক এই দলগুলোর ধারাবাহিক সশস্ত্র তৎপরতার কারণে পুরো পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জেএসএস-সংস্কার এবং ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিকসহ বিভিন্ন উপদলের পারস্পরিক কোন্দল ও শক্তির লড়াইয়ের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রায়শই অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক পানছড়ির তারাবন, সাজেক এবং মাটিরাঙ্গার রিসং ঝরনা এলাকার এই সশস্ত্র ঘটনাগুলো সেই দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতেরই নতুন বিস্তার। সাধারণ পাহাড়ি ও বাঙালি অধিবাসীরা এই ধরনের সশস্ত্র মহড়া ও গোলাগুলির ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।








