পাকিস্তানের রাজনীতিতে ভুট্টো ও ইমরানের পতনের মিল
পাকিস্তানের রাজনীতিতে জুলফিকার আলী ভুট্টো এবং ইমরান খানের রাজনৈতিক পতন ও কারাবাসের মধ্যে ঐতিহাসিক নানা মিল রয়েছে। বিশ্লেষণে উঠে এসেছে দুই নেতার ক্ষমতাচ্যুতি ও আন্তর্জাতিক নানা প্রেক্ষাপট।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসে জুলফিকার আলী ভুট্টো এবং বর্তমান সময়ের নেতা ইমরান খানের রাজনৈতিক পত্যন ও কারাবাসের ঘটনার মধ্যে এক গভীর সমান্তরাল ধারা লক্ষ করা যায়। সম্প্রতি দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে এই দুই নেতার রাজনৈতিক জীবনের উত্থান-পতন এবং কারাবাসের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। গবেষক ও বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজের পর্যালোচনায় এই ঐতিহাসিক তুলনামূলক চিত্রটি সামনে এসেছে।
ইতিহাসের পাতা থেকে জানা যায়, জুলফিকার আলী ভুট্টোকে ১৯৭৭ সালের জুলাইয়ে প্রথমে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় এবং কিছুদিন পর তাকে বন্দী করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৭৭ সালের সেপ্টেম্বরে ভুট্টোকে আটক করা হয়। এর পরের বছর ১৯৭৮ সালের মার্চে তার ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালের ২৪ মার্চ সেই ফাঁসির আদেশ উচ্চ আদালতে চূড়ান্ত অনুমোদন পায় এবং পরে তার মৃত্যুদ কার্যকর করা হয়। যে কারাগারে তাকে রাখা হয়েছিল, সেই রাওয়ালপিন্ডির ওই কারাগারটি ১৯৮৮ সালে ভেঙে ফেলা হয় এবং তার আগে ১৯৮৬ সালে সেখানে নতুন একটি কারাগার বানানো হয়েছিল।
অন্যদিকে, বর্তমান সময়ের রাজনীতিতে ইমরান খানের অবস্থাও অনেকটা একই ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ইমরান খানের বন্দিত্বের তিন বছর পূর্ণ হলো গত আগস্টে। বর্তমানে তিনি আদিয়ালা জেলে বন্দি আছেন এবং তার বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা হয়েছে। জুলফিকার আলী ভুট্টোর মতো ইমরান খানের ক্ষেত্রেও আইনি লড়াই ও কারাবাসের নানা দিক পাকিস্তানের বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনকে উত্তপ্ত করে রেখেছে।
ভুট্টোর আমলের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নানা পটপরিবর্তনও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। ১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর নিউইয়র্কে জুলফিকার আলী ভুট্টোর সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৬ সালের আগস্টে পাকিস্তানে আসেন মার্কিন নীতিনির্ধারক হেনরি কিসিঞ্জার। সেই সময় হেনরি কিসিঞ্জার ভুট্টোকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, এই কর্মসূচি ত্যাগ না করলে ভয়ংকর উদাহরণ (হরিবল এক্সামপল) অপেক্ষা করছে।
তবে ভুট্টোকে নিয়ে হেনরি কিসিঞ্জারের মূল্যায়নও বেশ জটিল ছিল। কিসিঞ্জার পরবর্তীতে বলেছিলেন, ভুট্টো ছিল মার্জিত, বাক্পটু ও সূক্ষ্ম বুদ্ধির...আমি তাকে দেখেছি মেধাবী ও আনন্দদায়ক হিসেবে। তার ধারণাগুলো ছিল বিশ্বমানের...সহজে বোকা বনে যাওয়ার লোক সে ছিল না। সেসময়ের আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের সম্পর্কের টানাপোড়েন স্পষ্ট ছিল।
ভুট্টোর পতনের ওই সময়টিতে বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের পালাবদল ঘটেছিল। ১৯৭৬-৭৭ সালের দিকে হেনরি কিসিঞ্জারের তৎপরতা, ১৯৭৯ সালের শুরুতে ইরানে শাহর পতন এবং ১৯৭৯ সালের শেষের দিকে আফগানিস্তানে সোভিয়েত আর্মির প্রবেশ ঘটে। ইতিহাসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর আফগানিস্তানে সোভিয়েত বাহিনী ঢোকে। দীর্ঘ সময় পর ২০২১ সালে তালেবানের দ্বারা ন্যাটোর বিতাড়িত হওয়ার ঘটনাও এই অঞ্চলের ভূরাজনীতির এক বড় অধ্যায়।
পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পিপলস পার্টি, জামায়াত-ই-ইসলামি ও আহলে সুন্নতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং জেনারেল জিয়া-উল-হক, জিমি কার্টার, রিগ্যান ও মাওলানা মওদুদীর মতো প্রভাবশালী ব্যক্তি ও শক্তির ভূমিকা সেসময়ের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করেছিল। এসব ঐতিহাসিক ঘটনার ধারাবাহিকতাই আজকের পাকিস্তান রাষ্ট্র ও এর রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে রূপ দিয়েছে, যা বর্তমানের ইমরান খানের রাজনৈতিক সংকটের সঙ্গে তুলনার সুযোগ তৈরি করেছে।








