পর্তুগালে বিদেশি নাগরিককে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে ২ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার
পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে বিদেশি নাগরিককে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঢাকাপ্রকাশ: · ২ মিনিট পড়া

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে এক বিদেশি নাগরিককে অপহরণ করে কয়েক দিন আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।
পর্তুগালের বিচারিক পুলিশ (Polícia Judiciária)–এর তদন্তে ওই দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে এসেছে। ঘটনাটি নিয়ে লিসবনভিত্তিক তদন্তকারী সংস্থা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
কী ঘটেছিল?
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ জুন লিসবনে ওই বিদেশি নাগরিককে দুই ব্যক্তি জোরপূর্বক অন্য একটি স্থানে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তাকে বিভিন্ন জায়গায় আটকে রাখা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, প্রায় দুই দিন ধরে ভুক্তভোগীকে একাধিক স্থানে নিয়ে যাওয়া এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। একই সঙ্গে তার মুক্তির বিনিময়ে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়েছিল।
পরে মুক্তিপণের অর্থ পরিশোধের পর ওই ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। নির্যাতনের কারণে তাকে চিকিৎসা নিতে হয়েছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তে দুই বাংলাদেশি শনাক্ত
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পর্তুগালের Polícia Judiciária-এর জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট।
তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের পরিচয় শনাক্ত করার পর দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বয়স যথাক্রমে ৩৫ ও ৪৩ বছর বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা ঘটনাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও তথ্য সংগ্রহ করছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আদালতে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
তদন্ত এখনো চলছে
পর্তুগিজ কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন সাম্প্রতিক অভিযানে অপহরণ, চাঁদাবাজি ও সহিংস অপরাধের ঘটনায় একাধিক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া গেছে। দেশটির Polícia Judiciária-এর সাম্প্রতিক এক অভিযানে অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তারের কথাও জানানো হয়েছিল।
তবে লিসবনের এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অভিযোগ এখনো আদালতে বিচারাধীন। ফলে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে তাদের দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ
পর্তুগালে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি অংশ মনে করছে, বিচ্ছিন্ন কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটির ওপর চাপানো উচিত নয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে প্রকৃত ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা স্পষ্ট হওয়ার পরই এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যাবে।
BDRevise24 | প্রবাসীদের খবর ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সর্বশেষ আপডেট পেতে আমাদের সঙ্গেই থাকুন।







