পঞ্চগড়ে আরিফুর রহমান হত্যার বিচার দাবিতে দীর্ঘ প্রতীক্ষা
২০২৩ সালের ৩ মার্চ পঞ্চগড়ে কাদিয়ানী বিরোধী আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত সংঘর্ষে নিহত আরিফুর রহমান হত্যার বিচার চেয়েছেন তার বাবা ফরমানে আলী। ঘটনার এতদিনেও বিচার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

২০২৩ সালের ৩ মার্চ পঞ্চগড়ে কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের সালানা জলসা বন্ধের দাবিতে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সংঘর্ষে নিহত হন আরিফুর রহমান। এই মৃত্যুর ঘটনায় দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো ন্যায়বিচার পাননি নিহতের পরিবার। ঘটনার পর থেকে ছেলের হত্যার বিচার পাওয়ার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তার বাবা ফরমানে আলী।
নিহত আরিফুর রহমানের বাবা ফরমানে আলী জানান, তার ছেলে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। ২০২৩ সালের ৩ মার্চ ঘটনার দিন জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে এবং আর জীবিত ফিরতে পারেনি। পরবর্তীতে তারা হাসপাতালে গিয়ে ছেলের লাশ দেখতে পান।
পরিবারের অভিযোগ, সেসময় সংঘর্ষের পর থানায় ফরমানে আলীর কাছ থেকে একটি কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। সেই কাগজে ইট-পাটকেলের আঘাতে ছেলের মৃত্যু হয়েছে এবং তাদের কোনো দাবি নেই—এমন কথা লেখা ছিল বলে তিনি জানান।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যার ঘটনায় ২০২৩ সালের ৪ জুন পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারহাদ হোসেন একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর আদালতের নির্দেশে ২০২৩ সালের ১০ জুলাই ময়নাতদন্তের জন্য আরিফুর রহমানের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। তবে পরিবার জানায়, এত কিছুর পরেও তারা এখনো ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাননি।
ছেলের মৃত্যুর পর সেসময় বিএনপির নেতা মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ ফরমানে আলীর বাড়িতে গিয়েছিলেন বলে তিনি জানান। ফরমানে আলীর ভাষ্যমতে, মেজর হাফিজ তার কাঁধে হাত রেখে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলেন যে এই হত্যার বিচার একদিন হবে। বর্তমানে মেজর হাফিজের দল ক্ষমতায় রয়েছে এবং তিনি সংসদের স্পিকার ও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে রয়েছেন উল্লেখ করে ফরমানে আলী দাবি জানান যে, তিনি যেন অন্তত তার ছেলে হত্যার বিচারটি করেন।
নিহতের বাবা আরও বলেন, তার কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই, তিনি শুধু চান তার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদের আসল পরিচয় বের হয়ে আসুক। মেজর হাফিজ অতীতে যে কথা দিয়েছিলেন, সেই কথা তিনি ভোলেননি। তাই সরকারের কাছে, প্রশাসনের কাছে এবং সংশ্লিষ্ট সবার কাছে তার একটাই জোর দাবি—এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হোক।
উল্লেখ্য, এই হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং পুনর্বাসনের দাবিতে ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ‘শহীদ আরিফুর রহমান স্মৃতি পরিষদ’-এর ব্যানারে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। এর মধ্যে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশের মতো কর্মসূচিও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে ন্যায়বিচারের জোরালো দাবি জানানো হয়।








