নেপালের বন্যা বলে ছড়ানো হাতি উদ্ধারের ভিডিওটি কি কৃত্রিম?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেপালের সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসের কথা বলে একটি হাতি কর্তৃক মানুষকে উদ্ধারের ভিডিও ছড়ানো হয়েছে। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভিডিওটি পুরোনো এবং এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ৭৫ শতাংশ।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি নেপালের বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা বলে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২৭ আগস্ট ২০২৪ তারিখে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, একটি ২০ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা গেছে একটি হাতি পানির তীব্র স্রোত থেকে এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করছে। এই ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে এটি নেপালের সাম্প্রতিক বন্যার দৃশ্য।
তবে খতিয়ে দেখা গেছে, এই ভিডিওটি নেপাল-তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলের গত ২৬ আগস্টের বন্যা ও ভূমিধসের অন্তত ১৮ দিন আগেই অনলাইনে উপস্থিত ছিল। অর্থাৎ, যে সময়ের বন্যার কথা বলা হচ্ছে, ভিডিওটি তার বহু আগেই ইন্টারনেটে চলে এসেছিল।
এর আগে চলতি বছরের আগস্ট মাসের শুরুর দিকেও ভিডিওটি বিভিন্ন দাবিতে ছড়ানো হয়েছিল। তখন কখনো একে আসামের বন্যার দৃশ্য বলা হয়, আবার কখনো সাধারণ কোনো প্রাণী উদ্ধারের ভিডিও হিসেবে প্রচার করা হয়। জুলাই থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত আসামের বন্যায় একশোর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং তিন লাখ মানুষ ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছিল—এমন নানা পরিস্থিতির মধ্যেই এই পুরোনো ভিডিওগুলো ভিন্ন ভিন্ন দাবিতে ব্যবহার করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু অ্যাকাউন্ট ও সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা দেখা গেছে। এর মধ্যে 'সংবাদ প্রতিদিন ২৪' নামক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিওর ক্ষেত্রে দেখা যায়, সেখানে ৩ লাখ ৭২ হাজারেরও বেশি ভিউ এবং ৭ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া বা রিঅ্যাকশন পড়েছে। এছাড়া অন্যান্য বিভিন্ন প্রোফাইলে এই ভিডিওটির ভিউ ৫৬ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে শুধু টনি গান্ক (Tony Gunk) নামের একটি অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি দেখা হয়েছে ৮ লাখেরও বেশিবার। এই প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ছিল Gazi Babl, Sowrov Ahmed, David J Harris Jr., বাংলা হান্ট, এই সময়, নাগরিক প্রতিদিন, দ্য ওয়্যার ইন্ডিয়া এবং সঞ্জয় পেরা নিউজ-এর মতো নামগুলো।
ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করতে ‘হাইভ মডারেশন’ (Hive Moderation) টুল ব্যবহার করা হয়। এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই শনাক্তকারী টুলের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ৭৫ শতাংশ। অর্থাৎ দৃশ্যটি বাস্তব কোনো ঘটনার নয় বরং প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি একটি কাল্পনিক ভিডিও হতে পারে।
শুধু এই একটি হাতি উদ্ধারের ঘটনাই নয়, নেপালের সাম্প্রতিক বন্যা বলে আরও কিছু পুরোনো ভিডিও ভুলভাবে প্রচার করা হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরাখণ্ড এবং জম্মু-কাশ্মীরের অন্যান্য পুরোনো ভিডিওগুলোকেও নেপালের সাম্প্রতিক বন্যা বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যাভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।








