নারায়ণগঞ্জে বুলবুল হত্যা মামলা: ১১ জন গ্রেপ্তার
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা ও ব্যবসায়ী জাহিদ আল আমিন বুলবুল হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত শেখ সিফাতসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সহযোগিতাকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সৃষ্টি হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে চাঞ্চল্যকর জাহিদ আল আমিন বুলবুল হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত শেখ সিফাতসহ মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়। নিহত জাহিদ আল আমিন বুলবুল পেশায় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন এবং তিনি ইসলামী যুব আন্দোলনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, নিহত বুলবুলের বয়স ছিল ৪০ বছর। আর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ যাদের গ্রেপ্তার করেছে, সেই ১১ জনের মধ্যে রয়েছেন শেখ সিফাত, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সি, জুম্মন, মাহবুব হোসেন ওরফে মাহাফুজ, রিয়াদ, মো. সিয়াম, মিনারা, নাসিমা, রুমা, ইফরান, ইয়াসমিন, সিজান ওরফে জিসান এবং তাহের আলী প্রধান। তবে ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে ৪ বছর বয়স উল্লেখ নেই এমন কোনো বিষয় বা অন্যান্য বিবরণী সূত্রে জানা যায় যে, আসামিদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত প্রধান অভিযুক্ত শেখ সিফাতের বিরুদ্ধে এর আগে ১৪টি মামলা রয়েছে। এছাড়া জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুম্মনের বিরুদ্ধে ৯টি এবং রিয়াদের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা রয়েছে। এই অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের পাশাপাশি বুলবুল হত্যা মামলার তদন্তে নতুন তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
সংবাদ সম্মেলনে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সি। তিনি জানান, বুলবুল পেশায় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন এবং ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি আন্দোলনকারীদের খাবারসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছিলেন। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই শেখ সিফাতসহ কয়েকজনের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে তদন্তে তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
তদন্তে আরও জানা যায়, এই বিরোধের জেরে পরবর্তীতে বুলবুলের ওপর হামলা চালানো হয় এবং তাকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে আসামিদের ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে বন্দর থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরবর্তীতে পুলিশ সফলভাবে অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্তসহ মোট ১১ জনকে আইনের আওতায় নিয়ে আসে।
ঘটনার পর নিহত বুলবুলের পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বাকি বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হবে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।








