নারায়ণগঞ্জে ইসলামী যুব আন্দোলন নেতা বুলবুল খুন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে মুজাহিদুল ইসলাম বুলবুল নামের এক স্থানীয় ইসলামী যুব আন্দোলন নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও বিচারের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন ইসলামী আন্দোলন ও স্থানীয়রা। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ শেখ সিফাত নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে মুজাহিদুল ইসলাম বুলবুল নামের এক স্থানীয় ইসলামী যুব আন্দোলন নেতাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ২১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে রাতে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত মুজাহিদুল ইসলাম বুলবুলের বয়স হয়েছিল ৪৫ বছর। তিনি শাহি মসজিদ ঠাকুরপাড়া এলাকার মৃত রাজা মাস্টারর ছেলে ছিলেন। প্রথম আলো, জাগো নিউজ ও সমকালসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২১ আগস্ট রাতে আনুমানিক ১০টার দিকে বন্দর উপজেলার সালেহ নগর এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে মুজাহিদুল ইসলাম বুলবুলকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন বা ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করা হয়। এই নৃশংস ঘটনার পর পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
নিহত মুজাহিদুল ইসলাম বুলবুল জুলাই-আগস্ট ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত হামলার ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলার বাদী ছিলেন। ওই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত হলেন শেখ সিফাত। পুলিশ জানিয়েছে, মুজাহিদুলের ওপর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে সংযোগ রয়েছে এবং এই ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে শেখ সিফাতকে গ্রেপ্তার করেছে।
এদিকে মুজাহিদুল ইসলাম বুলবুলকে হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরই তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীসহ ক্ষুব্ধ স্থানীয় সাধারণ মানুষ হত্যার বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
বিক্ষোভকারীরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পলাতক অন্যান্য অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। মহাসড়ক অবরোধের কারণে ওই এলাকায় সাময়িকভাবে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঘটনার পর বন্দর থানা পুলিশ ও কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালায়। পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে পূর্বের মামলার জেরে কোনো শত্রুতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃত শেখ সিফাতকে জিজ্ঞাসাবাদসহ আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকিদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।








