নাগরিকত্ব যাচাইয়ে ভোগান্তিতে সাবেক ভারতীয় রাষ্ট্রদূত নবদীপ সুরি
ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর ভোটার তালিকা প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব যাচাই করতে গিয়ে জটিলতায় পড়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসরসহ তিনটি দেশে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত নবদীপ সুরি। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি এই প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করেছেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসরসহ তিনটি দেশে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অভিজ্ঞ কূটনীতিক নবদীপ সুরি নিজেই এই ভোটার তালিকা প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ক্ষেত্রে মারাত্মক বাধার মুখে পড়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, তিনটি দেশে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার পরও যদি তাকে নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণে সমস্যায় পড়তে হয়, তবে সাধারণ মানুষের ভাগ্য কী হতে পারে?
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, সাবেক এই কূটনীতিক পাঞ্জাবে বুথ লেভেল অফিসারের কাছে তার ভোটার আইডি কার্ড এবং আধার কার্ড জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০০৩ সালের তালিকার সঙ্গে তার বর্তমান তথ্যের মিল না পাওয়ায় তাকে একটি সতর্কবার্তার মুখোমুখি হতে হয়। নির্বাচন কমিশনের এই নিয়মের কারণে তাকে নানা ধরনের জটিলতা ও ভোগান্তির ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, যেসব নাগরিকের নাম ২০০২ বা ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় পাওয়া যায় না, তাদের ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার সূত্র প্রমাণের বিভিন্ন ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক নথি বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হয়। এই কঠোর নিয়মের বেড়াজালেই মূলত সাবেক রাষ্ট্রদূত নবদীপ সুরির মতো অভিজ্ঞ ব্যক্তিকেও নাগরিকত্ব প্রমাণের কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছে।
এদিকে নথি অনুমোদনের প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই নানা বিতর্ক ও আইনি মারপ্যাঁচ দেখা গেছে। প্রাথমিকভাবে নির্বাচন কমিশন আধার কার্ড ছাড়া বিকল্প ১১টি নথি অনুমোদন করেছিল। তবে পরবর্তীতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত বা সুপ্রিম কোর্টের নির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণের পর নির্বাচন কমিশন তাদের অনুমোদিত নথির তালিকাটি আরও সম্প্রসারিত করে এবং এর ভেতরে বাধ্যতামূলকভাবে আধার কার্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে।
নির্বাচন কমিশনের এই এসআইআর বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন ভোটার তালিকা প্রক্রিয়াটির বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাজ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে বিহার রাজ্যে প্রথম এই এসআইআর প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছিল। সেই সময় সেখানে মৃত ব্যক্তিসহ ৬০ লাখের বেশি ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল।
বিহারের পর অন্যান্য অঞ্চলেও এই বিতর্কিত প্রক্রিয়ার প্রভাব পড়তে দেখা যায়। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ঠিক আগে আগে এই ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে রেকর্ডসংখ্যক ৯০ লাখ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। এত বিপুল পরিমাণ ভোটারের নাম বাদ পড়ার ঘটনা এবং সাবেক রাষ্ট্রদূতের মতো ব্যক্তিত্বের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের অভিজ্ঞতা এই পুরো প্রক্রিয়াটির কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।








