নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিদ্যুতের দাম নির্ধারণে বিইআরসির গণশুনানি
নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের দাম ৬ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ঢাকার সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি এই গণশুনানির আয়োজন করে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির উদ্যোগে একটি গুরুত্বপূর্ণ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৩ সালের ২৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে রাজধানী ঢাকার সেগুনবাগিচায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এই গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত গণশুনানিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক এবং এর আর্থিক হিসাব-নিকাশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। শুল্ক ও দাম নির্ধারণের এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
গণশুনানিতে উপস্থাপিত প্রস্তাব অনুযায়ী, ৫০ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের হিসাব করে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৬ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রের সক্ষমতার ১০ থেকে ২০ শতাংশ ব্যাটারি সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখারও প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় বার্ষিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ধরা হয়েছে প্রায় ৯ কোটি ১৮ লাখ ৪০ হাজার ইউনিট এবং মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫৯৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
শুনানিতে অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন গঠনমূলক মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। এম শামসুল আলম বলেন, বিইআরসিকে নিজস্ব ক্ষমতা ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুতের ন্যায্য বেঞ্চমার্ক দাম নির্ধারণ করতে হবে। এরপর প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কেনা যেতে পারে।
জেবউননেছা তাঁর বক্তব্যে বলেন, শুধু প্রস্তাবকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্যের ওপর নির্ভর না করে স্বাধীনভাবে উৎপাদন খরচ, বেঞ্চমার্ক ও দেশ–বিদেশের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করতে হবে। এ ছাড়া মোস্তফা আজিম কাসেম খান উল্লেখ করেন যে অতিরিক্ত চার্জে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়বহুল হলে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে। তাই সঞ্চালন, বিতরণ ও অন্যান্য চার্জের যৌক্তিক হিসাব প্রয়োজন।
এই গণশুনানিতে আরও উপস্থিত ছিলেন মো. দিদারুল আলম, আব্দুল হাসিব চৌধুরী, সেরাজুল ইসলামসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। এর মধ্যে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), ফ্লোসোালার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং প্রথম আলোসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যুক্ত ছিলেন।
সবশেষে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ তাঁর সমাপনী বক্তব্যে জানান যে, ব্যাটারি স্টোরেজের খরচসহ কয়েকটি বিষয় আরও যাচাই করা দরকার। নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ নিয়ে পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় রেখে বিদ্যুতের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং এসব বিষয় সতর্কভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আরও পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে আপত্তি বা লিখিত বক্তব্য জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।








