দেশের শেয়ারবাজারে অব্যাহত দরপতন, সূচক ও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে
৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দেশের শেয়ারবাজারে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দাম কমেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মূল্যসূচক হ্রাসের পাশাপাশি লেনদেন পরিস্থিতি আলোচিত হয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতি, বিক্রির চাপ এবং বাজারে তারল্যের সংকটকে এই দরপতনের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:৩১· ১ মিনিট পড়া

৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দেশের শেয়ারবাজারে অব্যাহত দরপতন ও লেনদেন পরিস্থিতি দেখা গেছে। এদিন দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দাম কমেছে। একই সঙ্গে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে মূল্যসূচকও কমেছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতি, বিক্রির চাপ এবং বাজারে তারল্যের সংকট এই দরপতনের অন্যতম কারণ।
রোববার ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে মাত্র ৪৯ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। এর বিপরীতে ডিএসইতে ৩০৯ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে এবং ৩৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজারটির বিভিন্ন গ্রুপভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভালো কোম্পানির ২৬টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, বিপরীতে ১৬৩টির দাম কমেছে এবং ১১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের ১২টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, বিপরীতে দাম কমেছে ৫৮টির এবং ৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া 'জেড' গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১১টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, বিপরীতে দাম কমেছে ৮৯টির এবং ১৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। পাশাপাশি একটি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ২৯টির দাম কমেছে এবং ৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম কমার এই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ডিএসইর সার্বিক মূল্যসূচকে। বাজারটির প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৪১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৬১৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ১২ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১২২ পয়েন্টে নেমে গেছে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে এক হাজার ১২৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
সূচক ও শেয়ারের দাম কমার দিনেও ডিএসইতে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫১৮ কোটি ৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসের তুলনায় এই লেনদেন বেড়েছে ৫১ কোটি ২ লাখ টাকা। উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট ডিএসইতে লেনদেন ছিল ৫০৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে লেনদেন কমে ৪৬ কোটি ১ লাখ টাকা হয়েছিল।
রোববার ডিএসইতে কিছু নির্দিষ্ট কোম্পানির শেয়ারে লেনদেন বেশি হয়েছে। এর মধ্যে সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ার ২৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ২৪ লাখ টাকার। এছাড়া সায়হাম কটন ১৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে রয়েছে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, লাভেলো আইসক্রিম, বেক্সিমকো, মালেক স্পিনিং, এমএল ডাইং এবং আইপিডিসি ফাইন্যান্স।
অন্যদিকে, দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) পতনের ধারা বজায় ছিল। সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪২টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, ১১২টির কমেছে এবং ২০টির অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম কমার এই ধারায় সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৭৫ পয়েন্ট।
সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও আগের দিনের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। ৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১১ কোটি ১ লাখ টাকা। অথচ এর আগের কার্যদিবসে সিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ২১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। সার্বিকভাবে ৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখের ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের বাজার পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের মাঝে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।








