দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আরাকুল মঠে পাখিদের আবাস সংকট
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পুরোনো ও জরাজীর্ণ আরাকুল মঠের দেওয়ালে ছোট ছোট গর্ত ও কুলুঙ্গিতে শালিক, টিয়াসহ নানা পাখি বসবাস করত। তবে আশপাশের জলাশয় ভরাট, নগরায়ণ ও পরিবেশের পরিবর্তনের কারণে পাখিদের এই আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পুরোনো ও জরাজীর্ণ আরাকুল মঠটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচিত। ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যগত পরিচয়ের পাশাপাশি এই প্রাচীন কাঠামোটি দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রজাতির পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে মঠের দেয়ালের ছোট ছোট গর্ত এবং বিভিন্ন কুলুঙ্গিতে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি তাদের আবাস গড়ে তুলেছিল।
প্রথম আলোর তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের এই জরাজীর্ণ আরাকুল মঠের দেওয়ালে গড়ে ওঠা প্রাকৃতিক আবাসে সাধারণত শালিক, টিয়াসহ নানা ধরনের পাখি বসবাস করে। এসব গর্ত ও কুলুঙ্গি পাখিগুলোর প্রজনন এবং নিয়মিত আশ্রয়ের জন্য অত্যন্ত উপযোগী ছিল। স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে পাখিগুলো যুগ যুগ ধরে এই পুরোনো মঠটিকে নিজেদের আবাস হিসেবে বেছে নিয়েছিল।
তবে সময়ের পরিবর্তনে ঐতিহাসিক এই মঠটির আশপাশের এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশে বড় ধরনের বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে আশপাশের জলাশয়গুলো ক্রমান্বয়ে ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে পাখিদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। জলাশয়গুলো শুকিয়ে যাওয়া বা ভরাট করার ফলে পাখিগুলোর প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পানির উৎস মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়ে গেছে।
জলাশয় ভরাটের পাশাপাশি দ্রুতগতির অপরিকল্পিত নগরায়ণও এই এলাকার পরিবেশগত পরিবর্তনের মূল কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। নগরায়ণের বিস্তৃতির ফলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আরাকুল মঠের চারপাশের সবুজ ও উন্মুক্ত পরিবেশ হারিয়ে যাচ্ছে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সেখানে বসবাসরত পাখিগুলোর ওপর, যা তাদের টিকে থাকার পথকে দিন দিন অনিশ্চিত করে তুলছে।
পরিবেশের এই সার্বিক পরিবর্তনের ফলে জরাজীর্ণ মঠের দেওয়ালে থাকা পাখিদের ঐতিহ্যবাহী আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে আসছে। পাখিদের টিকে থাকার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় শালিক ও টিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এ অবস্থায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আরাকুল মঠের মতো প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক আশ্রয়স্থলগুলোর সুরক্ষা এবং পাখিদের আবাস রক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।








