দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে তাওহীদ হৃদয়ের ঐতিহাসিক ট্রিপল সেঞ্চুরি
দক্ষিণ আফ্রিকায় দ্বিতীয় চারদিনের ম্যাচে ঐতিহাসিক ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছেন তাওহীদ হৃদয়। ১০ নম্বরে নেমে রেজাউর রহমান রাজার দারুণ সহায়তায় এই কীর্তি গড়েন তিনি। ইনিংসের পেছনের গল্প ও বিভিন্ন পরিসংখ্যান প্রকাশ পেয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্টরম থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, বাংলাদেশ দলের ব্যাটার তাওহীদ হৃদয় দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ঐতিহাসিক এক ট্রিপল সেঞ্চুরি অর্জন করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা এ দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় চারদিনের ম্যাচে এই চোখধাঁধানো ইনিংসটি খেলেন তিনি। তার এই অবিশ্বাস্য অর্জনের পেছনের গল্প ও ভেতরের নানা ঘটনা এখন প্রকাশ্যে এসেছে।
ইনিংসের শুরুর পরিস্থিতি নিয়ে তাওহীদ হৃদয় অকপটে নিজের অনুভূতির কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'শুরুতেই অকপট স্বীকারোক্তি, ট্রিপল সেঞ্চুরিতো বহুদূরে, আসলে সেঞ্চুরি করব কি করব না, কী হবে, না হবে? এসব আমি ভাবিনি। ওসব নিয়ে কোনো চিন্তাও করিনি। আর খেলা শুরুর পর আমরাও যে খুব ভালো অবস্থায় ছিলাম তাও না। খানিক ব্যাকফুটেই ছিলাম। ওই পরিস্থিতিতে ট্রিপল সেঞ্চুরি অলীক কল্পনা, শতরানের চিন্তাও আসেনি মাথায়।'
ম্যাচের প্রথম দিন থেকেই ব্যাট হাতে দারুণ ছন্দে ছিলেন এই ব্যাটার। ওই দিন খেলা শেষে তিনি ৭৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। এর আগে ব্যাট করার সময় তার ব্যক্তিগত হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ হয়েছিল মাত্র ৪০ বল মোকাবিলা করেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার রান বাড়তে থাকে এবং দলের রানও এগোতে থাকে।
ইনিংসের এক পর্যায়ে দারুণ কৌশল অবলম্বন করে প্রতিপক্ষ দল। যখন তাওহীদ হৃদয় ডাবল সেঞ্চুরিতে পৌঁছান, তখন প্রোটিয়ারা তাদের ফিল্ডারদের সীমানার আশপাশে ছড়িয়ে দিয়েছিল। রান আটকানোর এমন রক্ষণাত্মক কৌশল সত্ত্বেও নিজের স্বাভাবিক খেলা চালিয়ে যান হৃদয়।
এই ঐতিহাসিক ট্রিপল সেঞ্চুরি করার পথে চার-ছক্কার ফুলঝুরি ছোটান এই ব্যাটার। বিশেষ করে, শুধু ছক্কার মার থেকেই বড় একটি অংশ সংগ্রহ করেন তিনি। ট্রিপল সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে তাওহীদের ইনিংসে ছয়ের মার ছিল ১০টি। দলের অন্য ব্যাটাররাও তাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেন।
এই রেকর্ডের পেছনে সতীর্থদের অবদানের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন হৃদয়। পেসার রেজাউর রহমান রাজার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, 'পেস বোলার রেজাউর রহমান রাজার সাপোর্ট আমাকে আরও সামনে এগোতে দারুণ সহায়তা করল। রাজা আমাকে ট্রেমেন্ডাস সাপোর্ট দিয়েছে। সে অত নিচে ১০ নম্বরে নেমেও ১০০ বল (আসলে ১১০ বল) খেলে ফেলেছে।'
সবমিলিয়ে জাগো নিউজ-এর প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাওহীদ হৃদয়ের এই ঐতিহাসিক ট্রিপল সেঞ্চুরি এবং পচেফস্টরমের এই ম্যাচের খুঁটিনাটি ও পেছনের গল্পগুলো স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। বাংলাদেশ দলের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এই অর্জন একটি স্মরণীয় ঘটনা হয়ে রইল।








