ঢাবি শিক্ষার্থীদের পারিবারিক পটভূমি: শীর্ষে ব্যবসায়ীরা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের পারিবারিক ও পেশাগত পটভূমির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসের এই তথ্যে উঠে এসেছে বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের পিতার পেশা ও আয়ের নানা চিত্র।
প্রকাশ: · আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৬:১৬· ১ মিনিট পড়া

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের পারিবারিক ও পেশাগত পটভূমি সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের পারিবারিক ও পেশাগত পটভূমির এই তথ্যগুলো সামনে এসেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিস সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১, ২০২২, ২০২৩ এবং ২০২৫ সালে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থীর পিতার পেশা ছিল ব্যবসা। নির্দিষ্ট পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২১ সালে ১,৫৮৩ জন শিক্ষার্থীর পিতার পেশা ছিল ব্যবসা। এছাড়া একই বছরে ৯০৯ জন শিক্ষার্থীর পিতার পেশা ছিল কৃষক। পরবর্তীতে ২০২২ সালে পিতার পেশা ব্যবসা এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১,৩০২ জনে।
ধারাবাহিক এই তথ্যে দেখা যায়, ২০২৩ সালে এসে ব্যবসায়িক পটভূমি থেকে আসা শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায় এবং তা ১,৪২৪ জনে পৌঁছায়। তবে এই ধারায় ব্যতিক্রম দেখা যায় ২০২৪ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বেসরকারি চাকরিজীবী পরিবারের শিক্ষার্থীরা সংখ্যায় শীর্ষে ছিল এবং এই সংখ্যাটি ছিল ৭৫০-এর বেশি। সর্বশেষ ২০২৫ সালের তথ্যে দেখা যায়, সে বছরও ১,৩১৪ জন শিক্ষার্থীর পিতার পেশা ছিল ব্যবসা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. তানজীমউদ্দিন খান এসব তথ্যের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে জানান যে, ঢাবিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের দেওয়া পিতার মাসিক আয়ের বিবরণীর তথ্যগুলোতে ভুল রয়েছে। তার মতে, হতে পারে ব্যবসায় বলা এখানে অনেকের পিতাই কৃষক। এছাড়া, অনেক শিক্ষার্থী আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করতে পিতার আয় কম বলে উল্লেখ করে। তবে ফ্যাকালটি অনুসারে শিক্ষার্থীদের পারিবারিক তথ্য আলাদা হতে পারে বলে জানান এই অধ্যাপক। তার মতে, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীদের পরিবারের আয় ব্যবসায় শিক্ষা ও বিজ্ঞানের বিষয়গুলো নিয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের পারিবারিক আয় বেশি।
অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ড. আবদুস সালাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি ইনক্লুসিভ যায়গা। যেখানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সন্তানরা পড়াশোনা করার সুযোগ পায়। আর এটির মূল কারণ হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ত্রুটিহীন ভর্তি পরীক্ষাব্যবস্থা। একদম নিম্ন আয়ের কোনো পরিবারের শিক্ষার্থী যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়, পড়াশোনা শেষে সে আবার দেশের ভালো কোনো যায়গায় পৌঁছাতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের এই পারিবারিক ও পেশাগত পটভূমির প্রকাশ হওয়া তথ্যগুলো বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকে ফুটিয়ে তোলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিস থেকে পাওয়া এই পরিসংখ্যানগুলো দেশের উচ্চশিক্ষায় বিভিন্ন পেশাজীবি পরিবারের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা প্রদান করে।








