ঢাবিতে ছাত্রীদের হয়রানির প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রীদের হয়রানির প্রতিবাদের মুখে ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে প্রক্টরিয়াল টিমকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের তিন জন ছাত্রীকে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখের রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ও রাজু ভাস্কর্য এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ছাত্রীরা রাতের বেলা এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার হন।
এই হয়রানির ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ ছাত্র ও ছাত্র সংগঠনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। ১৯ আগস্ট রাত প্রায় ১১টার দিকে এই বিক্ষোভ মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে ন্যায়বিচার দাবি করে।
বিক্ষোভ চলাকালীন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের নেতা শিমুল কুম্ভকার ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, তিনি যখন হামলাকারীদের আটকাতে যান, তখন তাকেও কিল-ঘুষি দেওয়া শুরু হয়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সেই মুহূর্তে ছাত্রদলের মিছিল থেকে কয়েকজন এসে হামলাকারীদের সাথে যুক্ত হয়। এর ফলে তাদের সংগঠনের তিন-চারজন মারধরের শিকার হন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই সংঘাতে আরও বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থী জড়িত ছিলেন বা আহত হয়েছেন। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি ও সংগঠনের তালিকায় শিমুল কুম্ভকার ছাড়াও অন্তু অরিন্দম, মো. মুস্তাকিম, ইসরাফিল রতন, ইসরাত জাহান ইমু, গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং নাহিদুজ্জামান শিপনের মতো ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট প্রেক্ষাপটে আলোচনায় রয়েছেন। এছাড়া ঘটনার সাথে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রদল এবং বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নামও উঠে এসেছে।
হয়রানি ও পরবর্তী সংঘর্ষের ঘটনার পর ভুক্তভোগী ছাত্রীরা তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এরই অংশ হিসেবে, ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে একটি লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে ইসরাফিল রতন জানান যে তিনি পুরো ঘটনার বিষয়ে শুনেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা তাদের প্রক্টরিয়াল টিমকে ফোন করেছিলেন এবং সে অনুযায়ী তাদের টিম ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। তবে সেখানে গিয়ে হামলাকারীদের কাউকে পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান। প্রক্টরিয়াল টিম এখন এই পরিস্থিতি নিয়ে পরবর্তী কী করণীয় তা খতিয়ে দেখছে।








