ঢাকায় জলমগ্নতা: কমছে জলাভূমি ও মাটির ভেদ্যতা
অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও জলাভূমি হ্রাসের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই তীব্র জলমগ্নতা ও স্থবিরতা দেখা দিচ্ছে ঢাকায়। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স ও অন্যান্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দশকে কংক্রিটে ঢেকে গেছে শহরের সিংহভাগ এলাকা।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

২০২৬ সালের ৩০ আগস্ট প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, অপর্যাপ্ত নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং মাটির পানি শুষে নেওয়ার ক্ষমতা বা ভেদ্যতা হ্রাসের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই ঢাকা শহরে তীব্র জলমগ্নতা ও চরম স্থবিরতা দেখা দিচ্ছে। জলমগ্নতার এই সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকার মোট আয়তনের ৩ শতাংশেরও কম অংশজুড়ে জলাশয় রয়েছে। অথচ তিন দশক আগেও ঢাকার মোট আয়তনের ২০ শতাংশের বেশি এলাকা ছিল জলাভূমি। এছাড়া ১৯৮০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ঢাকা মহানগর এলাকায় ৬০ শতাংশ জলাধার হারিয়ে গেছে।
অন্যদিকে, চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার অনেক এলাকায় অব penetrable বা ভেদ্যতাহীন কংক্রিটের পরিমাণ ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে ঢাকার মোট জমির ৮০ শতাংশের বেশি অংশ কংক্রিটে ঢাকা রয়েছে এবং শহরের সবুজ আচ্ছাদন সামান্য ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে।
১৯৮০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ঢাকায় ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকা সাতগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে জলাভূমি এবং উন্মুক্ত জলরাশি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সংকুচিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১০ সালে ডিএপি (বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা) প্রণয়নের সময় মূল ঢাকা শহরে ৯,৫৫৬ একর জলাভূমি ছিল, যা কমে ২০১৯ সালে মাত্র ৬,০৭৩ একরে এসে দাঁড়ায়।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা শহরে পুকুরের সংখ্যাও আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে। শহরে ২০১৮ সালে যেখানে ১০০টি পুকুর ছিল, ২০২৩ সালে তা কমে মাত্র ২৯টিতে ঠেকেছে। পুকুর ও জলাধার ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে গেছে।
বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনার জন্য বার্লিন ও উহানসহ বিশ্বের বিভিন্ন শহর বর্তমানে 'স্পঞ্জ সিটি' বা স্পঞ্জের মতো পানি শোষণকারী শহরের ধারণা সফলভাবে বাস্তবায়ন করছে। অথচ ঢাকায় এর বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে, যা শহুরে জলাবদ্ধতা সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে।








