টঙ্গীর বাজারে মাছ কেটে জীবিকা নির্বাহ করছেন অর্ধশত শ্রমিক
গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী চেরাগআলী এলাকার শফিউদ্দিন সরকার বাজারে মাছ কেটে জীবিকা নির্বাহ করছেন প্রায় ৫০ জন শ্রমিক। প্রতিদিন বাজার কর্তৃপক্ষকে ১৬০ টাকা ফি দিয়ে তারা নির্ধারিত স্থানে বসেন এবং এই পেশার মাধ্যমেই তাদের সংসার চলে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী চেরাগআলী এলাকার শফিউদ্দিন সরকার বাজার মার্কেটে মাছ কাটার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন প্রায় ৫০ জন শ্রমিক। দিনভর হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করা এসব শ্রমিকের জীবনযাত্রা ও কাজের পরিবেশ এখন স্থানীয় পর্যায়ে বেশ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বাজারে আসা ক্রেতাদের নানা ধরনের সুবিধা দিতে এবং নিজেদের পরিবার চালাতে তারা এই পেশাকে বেছে নিয়েছেন।
এই বাজারে কর্মরত শ্রমিকদের কাজ করার সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে। শ্রমিকরা বাজার কর্তৃপক্ষকে প্রতিদিন ১৬০ টাকা ফি দিয়ে নির্ধারিত স্থানে বসেন। এই নিয়ম মেনে প্রতিদিন সকালে তারা বাজারে আসেন এবং ক্রেতাদের মাছ কেটে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হন। নির্দিষ্ট এই ফি পরিশোধের মাধ্যমেই তারা মার্কেটের নির্ধারিত স্থানে বসার সুযোগ পান।
বাজারটিতে মাছ কাটার মজুরি মাছের আকрতির ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়। বড় মাছ কাটতে কেজিপ্রতি ২০ টাকা এবং ছোট মাছ কাটতে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি নেওয়া হয়। ক্রেতারা তাদের কেনা মাছের আকার অনুযায়ী এই হারে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করে থাকেন।
শ্রমিকদের আয়ের পরিমাণ সপ্তাহের দিনভেদে কিছুটা কমবেশি হয়ে থাকে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহের সাধারণ দিনে একজন শ্রমিকের আয় ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা পর্যন্ত হয়। তবে ছুটির দিনগুলোতে ক্রেতার চাপ বাড়ায় তাদের আয়ও বৃদ্ধি পায়। শুক্র ও শনিবারে শ্রমিকদের আয় প্রায় ২,০০০ টাকায় পৌঁছায়।
মাছ কাটার এই সেবার ফলে ক্রেতারাও নানা ধরনের সুবিধা পাচ্ছেন। এ বিষয়ে ক্রেতা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, মাসিক বাজার একসঙ্গে করায় অনেক সময় মাছের পরিমাণ বেশি থাকে। বাড়িতে নিয়ে কাটার ঝামেলা এড়াতে বাজার থেকেই মাছ কাটিয়ে বাড়িতে ফেরেন তিনি।
এই পেশায় যুক্ত রয়েছেন ৬৫ বছর বয়সী আব্দুর রশিদ। তার মতে, হালাল উপার্জনের চেয়ে শান্তির কিছু নেই। এক বেলা মাছ কাটি, অন্য বেলা অন্য কাজ করে সংসার চালাই বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতো জাহিদ, কামাল, মতিউর এবং আসমা বেগমসহ অন্যান্য শ্রমিকরাও সততা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে চলেছেন।








