জুলাই অভ্যুত্থানের পর নারীদের অনলাইন হয়রানি ও প্রান্তিকীকরণ
জুলাই ২০২৪-এর অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের বিশিষ্ট নারীদের লক্ষ্য করে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক অনলাইন হয়রানি ও চরিত্রহনন চালানো হয়েছে। দ্য ডেইলি স্টারের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতি তিনটি পোস্টের প্রায় দুটিতেই যৌন সুরের গালিগালাজ বা চরিত্রগত আক্রমণ ছিল। এছাড়া রাষ্ট্রীয় সংস্কার কমিশনগুলোতেও নারীদের প্রতিনিধিত্ব ছিল নগণ্য।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

২০২৪ সালের জুলাই মাসের অভ্যুত্থান এবং ভারতের বিভিন্ন বিক্ষোভের পর বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশিষ্ট নারীদের নিশানা করে এক অনলাইন হয়রানি ও কাঠামোগত বর্জনের চিত্র উঠে এসেছে। দ্য ডেইলি স্টারের একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, জুলাই অভ্যুত্থানের ১৫ জন বিশিষ্ট নারীকে লক্ষ্য করে তৈরি ১৩৯টি প্রকাশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের ওপর গবেষণা চালানো হয়।
উক্ত বিশ্লেষণে অত্যন্ত উদ্বেজনক তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এতে দেখা যায়, সংগৃহীত পোস্টগুলোর প্রায় প্রতি তিনটির দুটিতেই (প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ) যৌন সুরের মৌখিক অপব্যবহার বা ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে আক্রমণ করা হয়েছে। এই অনলাইন সহিংসতার মাত্রা কতটা তীব্র ছিল তা এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট হয়।
বিশ্লেষণে আরও জানা গেছে যে, ওই ১৫ জন নারীর মধ্যে ১২ জন নারীই একসঙ্গে দুটি বা তার বেশি প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক বা সামাজিক শিবিরের কাছ থেকে মৌখিক আক্রমণের শিকার হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বা মতাদর্শিক বিভেদের ঊর্ধ্বে গিয়ে নারীদের ওপর এই ধরনের আক্রমণ চালানো হয়েছে।
এই পুরো পরিস্থিতির পেছনে রাজনৈতিক নানা দল ও গোষ্ঠীর নাম উঠে এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির, বিএনপি এবং ককরোজ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র মতো দলগুলোর নাম এবং মেটার প্ল্যাটফর্মের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা এসেছে। পাশাপাশি ভারতে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) ও অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা)-র প্রসঙ্গও এর সঙ্গে সম্পর্কিত।
আন্তর্জাতিক পরিসরেও নারী রাজনীতিক ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) এবং ইউএন উইমেন-এর তথ্য অনুযায়ী, ৩৩টি দেশের ১৫০ জন নারী সংসদ সদস্য ও সংসদীয় স্টাফের ওপর চালানো এক গবেষণায় ভয়াবহ চিত্র মিলেছে। ২০২৫ সালে প্রকাশিত ওই গবেষণায় দেখা যায়, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা অনলাইন ঘৃণাভরা বক্তব্য, ভুল তথ্য, ছবিভিত্তিক অপব্যবহার বা ব্যক্তিগত তথ্য অননুমোদিতভাবে প্রকাশের শিকার হয়েছেন।
বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত সংস্কারের ক্ষেত্রেও নারীর প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। দেশের ১০টি সংস্কার কমিশনে মোট ৯৭ জন সদস্য ছিলেন। এর মধ্যে মাত্র ১৫ জন নারী সদস্য ছিলেন এবং কমিশনগুলোর কোনোটিতেই কোনো নারীর প্রধান বা চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ ছিল না।
এছাড়াও, জুলাই ন্যাশনাল চার্টারের অধীনে নারী প্রার্থীদের জন্য সংসদীয় আসনের মাত্র ৫ শতাংশ আসন বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এই সার্বিক পরিস্থিতিতে আলিজা রহমান, জান্নাতুল নাঈম পিয়াল, রিয়া আহির ও নেহা বোরাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি এই বিষয়গুলো সামনে এনেছেন।








