জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুমসংক্রান্ত আইন খসড়া নিয়ে সংলাপ
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিডিবিএল ভবনে আজ বুধবার ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ও গুমসংক্রান্ত আইন (খসড়া): প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা’ শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নাগরিক কোয়ালিশন ও ভয়েস ফর রিফর্মের যৌথ আয়োজনে এই সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক গুম–সংক্রান্ত কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিস।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিডিবিএল ভবনে আজ বুধবার ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ও গুমসংক্রান্ত আইন (খসড়া): প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা’ শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের বর্তমান আইনি কাঠামো ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন খসড়া আইন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
নাগরিক কোয়ালিশন ও ভয়েস ফর রিফর্ম যৌথভাবে এই সংলাপের আয়োজন করে। আয়োজক সংগঠনের উদ্দেশ্য ছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুমসংক্রান্ত আইনের খসড়া নিয়ে বিশদ পর্যালোচনা করা এবং এর প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ফারাক তুলে ধরা।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক গুম–সংক্রান্ত কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিস। তিনি তাঁর প্রবন্ধে খসড়া আইনের বিভিন্ন দিক ও এর কার্যকারিতা নিয়ে আলোকপাত করেন। পাশাপাশি, অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ‘ভয়েস ফর রিফর্ম’–এর সহসমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর।
সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তিনি তাঁর বক্তব্যে বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জোরালো মন্তব্য করেন। তিনি একটি প্রখ্যাত আইনি প্রবচন উল্লেখ করে বলেন, “নো ম্যান শ্যাল বি আ জাজ ইন হিজ ওন কজ।”
নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় তাজুল ইসলাম আরও একটি প্রশ্ন তুলে ধরে বলেন, “যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারাই কীভাবে সেই অভিযোগের তদন্ত করবে?” তাঁর এই মন্তব্য উপস্থিত সুধীজনের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং তদন্ত প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নূর খান লিটন, শহিদুল আলম, মীর আহমাদ বিন কাসেম, মজিবুর রহমান মঞ্জু, তাজনতুন জাবীন, ফাহাদ চৌধুরী দিপু, সৈয়দ হাসিব উদ্দিন হোসেন, ফয়সাল মাহমুদ, জারিফ রহমান ও আরমান হোসাইন। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে এবি পার্টি, বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, দৈনিক ওয়াদা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সবশেষে আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন যে, আজকের এই সংলাপের মাধ্যমে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো সংশ্লিষ্ট নীতি-নির্ধারকদের কাছে পৌঁছাবে এবং মানবাধিকার সুরক্ষা ও গুম রোধে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে আরও বেশি স্বচ্ছ ও কার্যকর করে তুলতে সাহায্য করবে।








