জাতিসংঘের সিইআরডি পর্যালোচনায় ভারতের মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ
জাতিসংঘের জাতিগত বৈষম্য বিলোপবিষয়ক কমিটির (সিইআরডি) পর্যালোচনায় ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও সংখ্যালঘু দশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ২০০৭ সালের পর এটিই ছিল এই পর্যালোচনায় ভারতের প্রথম অংশগ্রহণ।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

জাতিসংঘের জাতিগত বৈষম্য বিলোপবিষয়ক কমিটি (সিইআরডি) ভারতে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বাংলাভাষী মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সুরক্ষার অংশ হিসেবে চলতি মাসের শুরুতে সিইআরডির এই পর্যালোচনায় ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নেয়। ২০০৭ সালের পর এটিই ছিল জাতিসংঘের এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনায় ভারতের প্রথম অংশগ্রহণ, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
চলতি মাসের শুরুতে অনুষ্ঠিত এই পর্যালোচনায় ভারতের সরকারি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারতের পক্ষ থেকে বিভিন্ন নীতি ও পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হলেও, আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন ও পর্যবেক্ষণ উত্থাপন করা হয়।
পর্যালোচনা চলাকালীন সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে জাতিসংঘের জাতিগত বৈষম্য বিলোপবিষয়ক কমিটি (সিইআরডি) একটি সুনির্দিষ্ট বিবৃতি প্রদান করে। ওই বিবৃতিতে কমিটি জানায়, 'আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবরে কমিটি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিভিন্ন জাতিগত ও ধর্মীয় গোষ্ঠী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর এসব ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে তফসিলি উপজাতি, তফসিলি জাতি—বিশেষ করে দলিত সম্প্রদায় এবং যাঁরা ভারতের নাগরিক নন, তাঁরাও রয়েছেন।'
ভারতের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা ও পর্যালোচনা চলছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির ভেতরে বিভিন্ন সম্প্রদায় ও জাতিগোষ্ঠীর ওপর নিপীড়নের বিভিন্ন খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। আল জাজিরা, প্রথম আলো ও ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এই বিষয়গুলো নিয়ে নানা সময়ে বিশদ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। অল ইন্ডিয়া ডেমোক্রেটিক উইমেনস অ্যাসোসিয়েশনের মতো সংস্থাও এ বিষয়ে বিভিন্ন সময় তাদের মতামত ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
জাতিসংঘের সিইআরডি কমিটির এই উদ্বেগের জবাবে ভারতের পক্ষ থেকেও তাদের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। জাতিসংঘের এই পর্যালোচনার প্রেক্ষাপটে ভারতের মিশন আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, 'সব ভারতীয়র জন্য সমতা, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমাদের যাত্রা অব্যাহত রয়েছে।' দেশটির সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সংখ্যালঘু অধিকার ও সামগ্রিক সমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের পর দীর্ঘ বিরতির পর ভারতের এই অংশগ্রহণ এবং পরবর্তীতে সিইআরডি কমিটির এই কঠোর পর্যবেক্ষণ আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। জাতিসংঘের জাতিগত বৈষম্য বিলোপবিষয়ক কমিটি (সিইআরডি) মূলত বিভিন্ন রাষ্ট্রে জাতিগত বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে কাজ করে থাকে এবং তাদের এই ধরনের পর্যালোচনা সংশ্লিষ্ট দেশের নীতিমালায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। আগামী দিনে ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং সিইআরডি বা জাতিসংঘের অন্যান্য অঙ্গসংগঠন এ বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।








