ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ কিনবে সরকার
টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গ্রাহকের ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত থাকা এই বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দামে জাতীয় গ্রিডে নেওয়া হবে। এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আজ মঙ্গলবার প্রকাশিত এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের সাধারণ গ্রাহক বা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজ নিজ ভবনের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেমে উৎপাদনের পর যে বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত থাকবে, তা কিনে নেবে সরকার। এই উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। প্রথম আলো ও ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে এই বিষয়টি উঠে এসেছে।
নির্ধারিত নীতিমালার আওতায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা। এই মূল্য নির্ধারণের নেপথ্যের হিসাব সম্পর্কে জানা গেছে, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সর্বোচ্চ ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রতি ইউনিট আট টাকা। এর সঙ্গে ২০ শতাংশ মুনাফা এবং ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যুক্ত করে এই চূড়ান্ত দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে এই বিশেষ সুবিধা পাওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (শ্রেডা/স্রেডা) এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর মানদণ্ড অনুযায়ী, যাঁর বা যাঁরা আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ তারিখের মধ্যে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করবেন, কেবল তাঁরাই এই কর্মসূচির আওতায় বিদ্যুৎ বিক্রির সুযোগ পাবেন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রণোদনা ও বিদ্যুৎ ক্রয়ের অর্থের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিশেষ নিয়ম অনুসরণ করা হবে। প্রণোদনার এই অর্থ সরাসরি গ্রাহকদের ব্যাংক হিসাব অথবা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অবস্থাতেই নগদ অর্থে এই পরিশোধ করা যাবে না।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে দেশের সাধারণ মানুষ ও প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ উদ্যোগে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে আরও বেশি উৎসাহী হবে। এটি একদিকে যেমন নিজস্ব জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সাহায্য করবে, অন্যদিকে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়ে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও সুদৃঢ় করবে।








