চাঁদা দাবির অভিযোগ থেকে ভিপি সানজানা অব্যাহতি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের ভিপি সানজানা চৌধুরী রাত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদা দাবির অভিযোগের সত্যতা পায়নি তদন্ত কমিটি। পরবর্তীতে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট তাকে ওই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) সানজানা চৌধুরী রাত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ থেকে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। গত বছরের নভেম্বর মাসের একটি অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার পর সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। মূলত ক্যান্টিন চালুর বিনিময়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে।
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর নড়েচড়ে বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অভিযোগের সত্যতা ও প্রেক্ষাপট উদ্ঘাটনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। গঠিত সেই তদন্ত কমিটি দীর্ঘ সময় ধরে ঘটনাটি নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখে এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণাদি সংগ্রহ করে।
তদন্তের সার্বিক প্রক্রিয়া শেষে সম্প্রতি তদন্ত কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়। প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা এই সিদ্ধান্ত নেয় যে, সানজানা চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের পক্ষে কোনো সত্যতা বা প্রমাণ মেলেনি।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে গণমাধ্যমকে বলেন, “সুফিয়া কামাল হল সংসদের ভিপি সানজানা চৌধুরী রাত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদা দাবির অভিযোগের কোনো প্রমাণ তদন্ত কমিটি পায়নি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট তাকে ওই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।”
এদিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের ভিপি সানজানা চৌধুরী রাত্রী। তিনি দীর্ঘ এই প্রক্রিয়ায় নিজের ওপর দিয়ে যাওয়া মানসিক চাপ ও অপপ্রচারের কথা তুলে ধরেছেন।
নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করতে গিয়ে সানজানা চৌধুরী রাত্রী বলেন, “শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাধীনভাবে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন গোষ্ঠীর আদর্শিক দ্বন্দ্বের কারণে আমাকে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে একজন নারী হিসেবে আমাকে নজিরবিহীনভাবে মিডিয়া ট্রায়াল ও মোরাল পুলিশিংয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে। দীর্ঘ এই প্রক্রিয়ার পর শেষ পর্যন্ত সত্য সামনে এসেছে। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে আমার ব্যক্তিগত সম্মান, মর্যাদা ও মানসিক শান্তির যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তার দায়ভার কে নেবে?”
বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সানজানা চৌধুরী রাত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা সেই বিতর্কিত অধ্যায়ের অবসান ঘটল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে গত বছরের নভেম্বর মাসের ওই ঘটনার পর থেকে চলা এই দীর্ঘ বিচারিক ও তদন্ত প্রক্রিয়ার অভিজ্ঞতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।








