চলتی অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে ইলিশ আহরণ কমেছে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে দেশে ইলিশ আহরণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ইলিশ আহরণ ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমেছে। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সম্প্রতি ইলিশসম্পদ উন্নয়ন-সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় ইলিশ আহরণ হ্রাসের এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। একই সঙ্গে দেশের প্রধান এই জাতীয় মাছের উৎপাদন ও প্রজনন সুরক্ষায় আগামী ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে ইলিশ আহরণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়েছে।
মৎস্য অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, বিগত বছরগুলোতে ইলিশের উৎপাদনে নানা ওঠানামা দেখা গেছে। ২০০১-০২ অর্থবছরে দেশে ইলিশ উৎপাদন ছিল প্রায় দুই লাখ টন। পরবর্তীতে ২০০৭-০৮ অর্থবছরে উৎপাদন বেড়ে দুই লাখ ৯৫ হাজার টনে দাঁড়ায়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদন হয় চার লাখ ৯৬ হাজার টন এবং ১৭-১৮ অর্থবছরে তা বেড়ে পাঁচ লাখ ১৭ হাজার টনে উন্নীত হয়। এরপর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে উৎপাদন ছিল পাঁচ লাখ ৩২ হাজার টন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে পাঁচ লাখ ৫০ হাজার টন, ২০২০-২১ অর্থবছরে পাঁচ লাখ ৬৫ হাজার টন এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে তা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ ৬৬ হাজার টনে পৌঁছেছিল।
তবে গত কয়েক বছর ধরে ইলিশের উৎপাদনে নিম্নমুখী ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে ইলিশ উৎপাদন সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ ৭১ হাজার টনে পৌঁছানোর পর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে পাঁচ লাখ ২৯ হাজার টনে নামে। পরবর্তীতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উৎপাদন আরও কমে প্রায় পাঁচ লাখ টনে ঠেকে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন পাঁচ লাখ টনের নিচে নেমে এসেছে এবং চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে আহরণ আরও ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
ইলিশের উৎপাদন হ্রাসের এই বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন গবেষকরা। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষক আনিসুর রহমান বলেন, '৩৩ বছর ধরে ইলিশ নিয়ে গবেষণা করছি। কিন্তু উৎপাদন কমে যাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এতটা শঙ্কিত হইনি। প্রাকৃতিক কারণের পাশাপাশি অতিরিক্ত মাছ আহরণ ও ছোট ইলিশ ধরা উৎপাদন কমার বিশেষ কারণ বলে আমি মনে করি।'
উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইলিশসম্পদ উন্নয়ন-সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় বলা হয়েছে, ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে মা ইলিশ রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বিশেষ করে বরিশাল, চাঁদপুর, ভোলাসহ প্রধান প্রজনন এলাকাগুলোতে নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হবে। এছাড়া অবৈধভাবে ধরা ইলিশের বাজারজাত বন্ধে বরফকল, আড়ত ও বাজারে নজরদারি বাড়াতে হবে এবং চাঁদপুর মোহনাসহ ইলিশের প্রজননক্ষেত্রে অবৈধ জাল অপসারণে অভিযান চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উৎপাদন কমার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টরা কথা বলেছেন। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, 'ইলিশ উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণ গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় উল্টো ইলিশ আমদানি করতে হচ্ছে, এটিও উদ্বেগের বিষয়। উৎপাদন বাড়াতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে।'
উল্লেখ্য, আগামী ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে ইলিশ আহরণে যে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়েছে, তার সফল বাস্তবায়নে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের জন্য ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে প্রান্তিক মৎস্যজীবীরা জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রে সহায়তা পান।








