গরুর মাংস ও ইলিশ পছন্দ করায় আইনি লড়াইয়ে অভিনেতা বিশ্বজিৎ
বাংলাদেশ সফরকালে গরুর মাংস ও ইলিশ খাওয়ার পছন্দ প্রকাশ করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ট্রোলের শিকার হন ভারতীয় অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। পরে এই ঘটনায় সাইবার আক্রমণ ও আইনি হুমকির মুখে মামলা দায়ের করেছেন তিনি। বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

সম্প্রতি ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ব্যক্তিগত কাজে সংক্ষিপ্ত সফরে বাংলাদেশে এসে নিজের খাদ্য পছন্দ প্রকাশ করার জেরে তাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ট্রোল এবং আইনি হুমকির মুখোমুখি হতে হয়। আর এই সাইবার হেনস্থা ও হুমকির পদক্ষেপে কঠোর অবস্থান নিয়ে শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ের পথ বেছে নিয়েছেন এই অভিনেতা। তিনি এই বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ৪ সেপ্টেম্বর। অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী ব্যক্তিগত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলাদেশে এসেছিলেন। তিনি জানান, গত ৪ তারিখ তিনি বাংলাদেশে গিয়েছিলেন এবং ৫ তারিখে নিজ দেশ ভারতে ফিরে আসেন। ওইটুকু সময়ের মধ্যেই তার এই সফর সম্পন্ন হয়। মূলত তার এক বোনের জন্মদিনের অনুষ্ঠান উপলক্ষে তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন। এই স্বল্পকালীন সফরে বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তায় তিনি দারুণভাবে অভিভূত হয়েছেন বলে গণমাধ্যমকে জানান।
বাংলাদেশ সফরকালে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘আজকাল ডট ইন’-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী তার খাদ্যাভ্যাস ও পছন্দের কথা প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, তিনি তো আজকেই এসেছেন এবং দুপুরে হোটেলে মাছ-ভাত খেয়েছেন। পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন যে, তারা রাতে গরুর মাংস খাবেন এবং আশা করছেন যে আগামীকাল ইলিশ মাছ খেতে পারবেন। তার এই মন্তব্যের পরই মূলত বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে এবং এটি নিয়ে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়।
হিন্দু সম্প্রদায়ের একজন অভিনেতা হয়ে গরুর মাংস খাওয়ার পছন্দ প্রকাশ করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে শুরু হয় তুমুল সমালোচনা। ভারতীয় কিছু নেটিজেন তার এই মন্তব্যের জেরে তাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র ট্রোল ও কটূক্তির লক্ষ্যবস্তু বানান। এমনকি তাকে বিভিন্ন ধরনের আইনি হুমকিও প্রদান করা হয়। নেটদুনিয়ায় এমন অপ্রীতিকর আক্রমণ ও হুমকির মুখে পড়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন অভিনেতা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত অধিকারের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। ট্রোলের জবাবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তার পেট, তার মন, তার হাত এবং যে খাবার তিনি খাবেন তার জন্য যে টাকা খরচ হবে, সেটাও তো তার নিজেরই। তাহলে তিনি কী খাবেন বা কতটা খাব সেটা অন্য কেউ ঠিক করে দেবে কেন? কেউ বললেই কি সেটা মেনে নিতে হবে, এমন ক্ষোভও প্রকাশ করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই বাড়াবাড়ি ও হুমকির ঘটনায় তিনি পিছিয়ে না গিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি এই বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি মামলা দায়ের করেছেন। যেহেতু মামলাটির আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে, তাই এই বিষয়ে তিনি আর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি। আদালত চত্বরে বা আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিষয়টি মীমাংসা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।








