খুলনার লবণচরায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই যুবক খুন
খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার আশিবিঘা এলাকায় বুধবার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি গুলিবর্ষণের ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন মঞ্জুরুল ইসলাম ও নাজমুল। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার আশিবিঘা এলাকায় বুধবার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি গুলিবর্ষণের ঘটনায় দুজন যুবক নিহত হয়েছেন। এই রোমহর্ষক জোড়া খুনের ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় ও রাতে সংঘটিত এসব হত্যাকাণ্ডের খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। প্রথম আলো ও বাংলা ট্রিবিউন সূত্রে জানা যায়, নিহত দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আশিবিঘা এলাকায় ২২ বছর বয়সী মঞ্জুরুল ইসলামকে গুলি ও কুপিয়ে জখম করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। নিহত মঞ্জুরুল ইসলাম পেশায় রাজমিস্ত্রির জোগানদার হিসেবে তার বাবা খোকন সানার সঙ্গে কাজ করতেন।
এর রেশ কাটতে না কাটতেই একই দিন রাত সাড়ে নয়টার দিকে একই এলাকার আরেকটি স্থান থেকে নাজমুল (১৮) নামের আরেক যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত নাজমুল মনির শেখের পুত্র। মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে একই এলাকায় এমন দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। নিহত নাজমুলের বাবা মনির শেখ তার সন্তানের মর্মান্তিক এই মৃত্যুর বিষয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, "আমার ছেলে বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াত, এটাই তার অপরাধ। তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।"
পৃথক এই দুটি হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে গভীর তদন্ত চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের লবণচরা থানা পুলিশ জানিয়েছে, জোড়া খুনের এই রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে নেমেছে তারা। বিশেষ করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সক্রিয় অপরাধী চক্রের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, আশিবিঘা এলাকায় সাইফি গ্রুপ ও রাজু গ্রুপ নামের দুটি সন্ত্রাসী গ্রুপের তৎপরতা ও বিরোধের তথ্য পুলিশের কাছে রয়েছে। মঞ্জুরুল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনো গ্রুপের সম্পৃক্ততা আছে কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। এ ছাড়া ঘটনার সময় নিহত মঞ্জুরুলের সঙ্গে থাকা তার এক বন্ধুকে পুলিশ খুঁজে পেয়েছে এবং তার কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তারা আশা করছেন, প্রত্যক্ষদর্শীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই জোড়া খুনের মূল রহস্য দ্রুত উন্মোচন করা সম্ভব হবে।








