ক্রিকেটে ছয় বলের ওভার চালুর ইতিহাস
ক্রিকেটের ইতিহাসে ওভারের বল সংখ্যায় এসেছে নানা পরিবর্তন। চার বল থেকে শুরু হয়ে তা আট বলে গড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ছয় বলের ওভার স্থায়ীভাবে চালু হয় ১৯৭৯-৮০ মৌসুমে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ক্রিকেট ইতিহাসের শুরুর দিকে ওভারের ধারণাটি বর্তমানের চেয়ে অনেকটাই আলাদা ছিল। ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম রেকর্ডকৃত ওভারে বলের সংখ্যা ছিল মাত্র চারটি। দীর্ঘ সময় ধরে এই নিয়মে খেলা পরিচালিত হতে থাকে এবং ১৮৮৯ সাল পর্যন্ত ক্রিকেটে চার বলের ওভারের প্রচলন অব্যাহত ছিল।
ক্রিকেটের আইন ও নিয়মে প্রথম বড় পরিবর্তন আসে ১৮৮৯ সালের পর। ওই সময়ের পর থেকে ওভারপ্রতি বলের সংখ্যা চার থেকে বাড়িয়ে পাঁচে উন্নীত করা হয়। দীর্ঘকাল এই পাঁচ বলের ওভারের নিয়মেই আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ক্রিকেট ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হতে থাকে।
তবে এরপর বিভিন্ন দেশ ওভারের সংখ্যা নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করে। এর অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া তাদের দেশের মাটিতে ১৯২২-২৩ মৌসুমে আট বলের ওভার প্রবর্তন করে। অস্ট্রেলিয়ার এই পদক্ষেপের দুই মৌসুম পর নিউজিল্যান্ডও তাদের ক্রিকেটে আট বলের ওভার চালুর সিদ্ধান্ত নেয়।
এই পরিবর্তনের ধারা কেবল অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। দক্ষিণ আফ্রিকা ১৯৩৮-৩৯ মৌসুম থেকে দীর্ঘ সময় ধরে, অর্থাৎ ১৯৫৭-৫৮ মৌসুম পর্যন্ত আট বলের ওভারেই ক্রিকেট খেলেছিল। এছাড়া ইংল্যান্ডও ১৯৩৯ সালে তাদের অভ্যন্তরীণ ক্রিকেটে পরীক্ষামূলকভাবে আট বলের ওভার চালু করেছিল।
আট বলের ওভারের এই প্রবণতা পরবর্তীতে এশিয়াতেও দেখা যায়। এর অংশ হিসেবে পাকিস্তানও তাদের ক্রিকেটে আট বলের ওভারের নিয়ম চালু করেছিল। দেশটি ১৯৭৪-৭৫ মৌসুম থেকে ১৯৭৭-৭৮ মৌসুম পর্যন্ত আট বলের ওভারের মাধ্যমেই তাদের ম্যাচগুলো পরিচালনা করে।
ক্রিকেটের বিভিন্ন দেশের এই ভিন্ন ভিন্ন নিয়মের অবসান ঘটে ১৯৭৯-৮০ মৌসুমে। দীর্ঘ বিবর্তন ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর ১৯৭৯-৮০ মৌসুম থেকেই ছয় বলের ওভার ক্রিকেট বিশ্বে স্থায়ীভাবে এবং সার্বজনীন মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।








