কুড়িগ্রামের চরে দড়ি কারখানায় নারীদের কর্মসংস্থান
কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তাপারের চরে গড়ে ওঠা একটি ক্ষুদ্র রঙিন দড়ির কারখানায় ১২ জন নারী শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এর মাধ্যমে নদীভাঙা এলাকার নারীদের অর্থনৈতিক পরিবর্তন আসছে এবং তাদের পরিবারে সচ্ছলতা ফিরছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:৪৬· ১ মিনিট পড়া

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার চর রাজবল্লভ গ্রামে তিস্তাপারের চরে একটি ক্ষুদ্র রঙিন দড়ির কারখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। নজির হোসেন ও নূর আলম নামের দুই উদ্যোক্তা এই কারখানাটি গড়ে তুলেছেন। নদীর ভাঙনকবলিত ও অনুন্নত এই চরাঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে স্থানীয় নারীদের অর্থনৈতিক জীবনে পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে এই উদ্যোগটি।
বর্তমানে এই কারখানায় স্থানীয় ১২ জন নারী শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন। কারখানায় কর্মরত শ্রমিক লাকী বেগম তাদের কাজের অভিজ্ঞতা ও পরিবর্তনের কথা জানিয়ে বলেন, নদীভাঙা এলাকায় কোনো কাজ ছিল না। আগে মানুষের বাড়িতে কাজ করে খাওয়া-দাওয়া ও আধ সের চাল পাওয়া যেত। এখন বাড়ির খাবার খেয়ে কারখানায় কাজ করে প্রতি মাসে ছয় হাজার টাকা বেতন পাচ্ছি। সেই টাকা দিয়ে সংসার চালাই এবং ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করাই।
কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম সম্পর্কে জানা যায়, এখানে ১৫টি মেশিনের সাহায্যে প্রতি মাসে ৪৫ মণ এবং বছরে ৫৪০ মণ রঙিন দড়ি উৎপাদিত হয়। এই কারখানায় বছরে মোট ৫০ লাখ টাকার দড়ি তৈরি হয়। উৎপাদিত এসব রঙিন দড়ির প্রতি কেজির দাম রাখা হয় ২৫০ টাকা।
কারখানায় উৎপাদিত এই রঙিন দড়ি শুধু স্থানীয় পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা কুড়িগ্রাম, রংপুর, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাটের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। চরাঞ্চলের মতো একটি দুর্গম এলাকায় এমন পণ্যের বাণিজ্যিক উৎপাদন স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এই উদ্যোগে কিছু আর্থিক সহায়তাও যুক্ত হয়েছে। জানা গেছে, উদ্যোক্তারা কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ পেয়েছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)-এর মাধ্যমে শাহ মোহাম্মদ জোনায়েদ ও এটিএম আরিফ এই কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন।
তবে এত সব ইতিবাচক অগ্রগতির মধ্যেও উদ্যোক্তারা কিছু বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে উদ্যোক্তারা অর্থায়ন সংকট ও মূলধনের অভাবে ভুগছেন। পর্যাপ্ত মূলধন ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই ক্ষুদ্র উদ্যোগটি আরও প্রসার লাভ করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।








