কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিলকিছ-আলম পাঠাগারের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কোমাল্লা গ্রামে বিলকিছ-আলম পাঠাগারের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে প্রধান অতিথি হিসেবে এর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের কোমাল্লা গ্রামে নবপ্রতিষ্ঠিত বিলকিছ-আলম পাঠাগারের ভিত্তিপ্রস্তর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে এই পাঠাগারের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ এবং বইপড়ার পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদাৎ হোসেন। তিনি ঘোলপাশা ইউনিয়নের কোমাল্লা গ্রামে উপস্থিত হয়ে এই পাঠাগারের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। তার এই উপস্থিতিতে স্থানীয় উদ্যোগটি আরও বেশি গতিশীলতা লাভ করে এবং আয়োজক ও স্থানীয়রা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে খেলাধুলার পাশাপাশি সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চা বাড়াতে হবে। তরুণদের কীভাবে বইয়ের সঙ্গে যুক্ত রাখা যায় এবং তাদের শুদ্ধ জীবনের পথে ফিরিয়ে আনা যায়— এ বিষয়টি নিয়ে তিনি নিয়মিত ভাবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এ ক্ষেত্রে পাঠাগার কার্যক্রম অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের নিয়ে পাঠাগারে আসা এবং তাদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে উৎসাহিত করা। এছাড়া তিনি আশ্বাস দেন যে, বিলকিছ-আলম পাঠাগারের মতো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার চেষ্টা করা হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কবি ও প্রাবন্ধিক আহমেদ মাওলা। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, সমাজকে এগিয়ে নিতে বইপাঠের কোনো বিকল্প নেই। পাঠাগারই বইপাঠের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র তৈরি করে। একটি সমাজ পাঠাগারের প্রতি কতটা আন্তরিক, তা দেখলেই সেই সমাজের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থার অনেকটা বোঝা যায়। তিনি আরও যোগ করেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে ওঠা বিলকিছ-আলম পাঠাগারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের দায়িত্বশীল ও বিত্তবান ব্যক্তিদেরও এসব প্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়ানো উচিত।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন মাওলানা নুরুল আলম খাঁন, ইমরান মাহফুজ, মোশারফ হোসেন, মো. আহসান উল্লাহ, সিরাজুল ইসলাম ফরায়েজী, মো. এমদাদ উল্যাহ, বেলাল হোসাইন, আবু বকর সুজন, আমিনুল ইসলাম, এ কে এম শামছুল হক এবং মাওলানা মোবারক বিন আলম। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও এই আয়োজনে অংশ নেন, যার মধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, চৌদ্দগ্রাম প্রেস ক্লাব এবং কোমাল্লা এবতেদায়ী স্বতন্ত্র মাদরাসা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি ও আয়োজকদের সম্মিলিত উপস্থিতিতে কোমাল্লা গ্রাম তথা চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়ন এলাকায় একটি জ্ঞানমুখী ও প্রগতিশীল পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। বিলকিছ-আলম পাঠাগারটি চালুর এই প্রাথমিক পদক্ষেপ এলাকার তরুণ সমাজকে মাদক ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে রেখে পড়াশোনা এবং সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উপস্থিত সকলে আশা প্রকাশ করেন।








