কিশোরগঞ্জে ৬ বছরেও চালু হয়নি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বালিকাদের স্কুল ও হস্টেল
জনবল নিয়োগ না হওয়ায় সরকারি উদ্যোগে নির্মিত কিশোরগঞ্জের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বালিকাদের স্কুল ও হস্টেল ভবনটি ছয় বছর ধরে অব্যবহৃত পড়ে আছে। দীর্ঘদিনের অবহেলায় ভবনটির ভেতরের বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি হয়ে গেছে এবং মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে এটি।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

কিশোরগঞ্জ শহরে সরকারি উদ্যোগে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বালিকাদের জন্য নির্মিত একটি স্কুল ভবন ও হস্টেল গত ছয় বছর ধরে সম্পূর্ণ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না হওয়ায় কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোটি চালুর মুখ দেখেনি। ফলে যে মহৎ উদ্দেশ্যে এই প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করা হয়েছিল, তার সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী ১০ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বালিকাকে লক্ষ্য রেখে এই প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছিল। সরকারি অর্থায়নে কিশোরগঞ্জ শহরে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বালিকাদের জন্য একটি দুই তলা স্কুল ভবন ও হস্টেল নির্মাণ করা হয়। অত্যন্ত জনকল্যাণমূলক এই অবকাঠামো নির্মাণের মূল কাজটি সফলভাবে সম্পন্ন করে গণপূর্ত অধিদপ্তর।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, ২০১৯ সালে এই নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। গণপূর্ত অধিদপ্তর, কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ তদারকি করেন। পুরো নির্মাণকাজ শেষ করতে সরকারের মোট ১ কোটি ৬১ লাখ ৯৯ হাজার টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু ভবন প্রস্তুত হওয়ার পরও জনবল সংকটের কারণে তা আজ পর্যন্ত চালু করা সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘ ছয় বছর ধরে ভবনটি তালাবদ্ধ ও অব্যবহৃত পড়ে থাকায় এর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি এই অবহেলা এবং অব্যবস্থাপনার সুযোগ নিয়ে ভবনটির ভেতরে থাকা বিভিন্ন মূল্যবান সরঞ্জাম ও নির্মাণসামগ্রী ইতোমধ্যে চুরি হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং জনশূন্যতার কারণে বর্তমানে এই চত্বরটি মাদকসেবীদের নিরাপদ আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে গভীর ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। নাগরিক আন্দোলনের সংগঠক কামরুল ইসলাম এই অব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া আজিম উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোকাররম হোসেন এবং জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, কিশোরগঞ্জের উপপরিচালক এ টি এম আমিনুল ইসলাম এই পুরো বিষয়টি নিয়ে তাদের প্রশাসনিক ও সামাজিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন।
সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা)-এর উপতত্ত্বাবধায়ক আয়েশা রশিদ এই প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা এবং এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেছেন। প্রথম আলো পত্রিকার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই পুরো অব্যবস্থাপনা ও দুর্ভোগের চিত্রটি জনসমক্ষে উন্মাচিত হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
স্থানীয় জনসাধারণ ও সংশ্লিষ্টরা অবিলম্বে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের মাধ্যমে ভবনটি চালু করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সরকারের কোটি টাকায় নির্মিত এই জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।








