কাঁচপুর থেকে ভোলার ইলিশা ঘাটে নতুন ফেরি সার্ভিস চালু
নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর থেকে ভোলার ইলিশা ঘাট পর্যন্ত নতুন ফেরি সার্ভিস চালু হয়েছে। ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ ও ‘বেগম রোকেয়া’ নামের দুটি ফেরি এই নৌপথে চলাচল শুরু করেছে। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করা হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর থেকে ভোলার ইলিশা ঘাট পর্যন্ত নতুন ফেরি সার্ভিস আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হলো। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) এবং বিআইডব্লিউটিএ-এর উদ্যোগে এই রুটে ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে।
গত মঙ্গলবার বিকেলে সড়ক পরিবহন, সেতু ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই ফেরি সার্ভিসটি উদ্বোধন করেন। এর আগে গত মঙ্গলবার একটি পরীক্ষামূলক ট্রায়াল সম্পন্ন হয় এবং পরবর্তীতে গত মঙ্গলবারই এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় বলে প্রথম আলোর তথ্যে জানা যায়।
নতুন এই নৌপথে ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ ও ‘বেগম রোকেয়া’ নামের দুটি ফেরি চলাচল শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টায় ১২টি বড় মালবাহী ট্রাক ও দুটি ছোট গাড়ি নিয়ে কাঁচপুর সেতুর নিচ থেকে ইলিশা ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায় ফেরি ‘বেগম সুফিয়া কামাল’। এরপর দীর্ঘ সাড়ে সাত ঘণ্টা নদীপথ পাড়ি দিয়ে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফেরিটি নিরাপদে ইলিশা ঘাটে পৌঁছায়। বর্তমানে এই রুটে ফেরি পারাপারে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগছে।
নতুন এই ফেরি সার্ভিসে যাতায়াতের জন্য যানবাহনের ভাড়ার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বড় মালবাহী ট্রাকের ফেরি ভাড়া ১২ হাজার ৫০০ টাকা, মিনি ট্রাকের ভাড়া ৯ হাজার টাকা, ব্যক্তিগত গাড়ির ভাড়া ৫ হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেলের ভাড়া ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন এই ফেরি সার্ভিস চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মো. জহির উদ্দিন বলেন, 'নতুন ফেরি সার্ভিস চালু হওয়ায় চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বন্দর এলাকার যানবাহনের জন্য সুবিধা হবে। নরসিংদী, সিলেটসহ অন্যান্য অঞ্চলের পণ্যবাহী যানবাহনের যাতায়াতেও এ ফেরি কাজে লাগবে।'
ব্যবসায়িক মহলে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। নিতাইগঞ্জ পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী মালিক সমিতির শংকর সাহা বলেন, 'ফেরি চালু হওয়াতে ব্যবসার গতি বাড়বে, দক্ষিণাঞ্চলে পণ্যের চাহিদা বাড়বে। পরিবহন ব্যয় কমে গেলে মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য কিনতে পারবেন।'
পরিবহন মালিক ও চালকরাও এই পদক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। সোহেল রানা জানান, 'ফেরি সার্ভিস চালু হওয়ায় পণ্যবাহী গাড়ি নিয়ে দিনে ভোলায় যাওয়া সম্ভব হয়েছে। আবার রাতে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।' এছাড়া আবুল কাশেম নামের এক ব্যক্তি বলেন, 'সড়কপথে যানজটসহ নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হতো। চাঁদাবাজদের হয়রানির শিকার হতে হয়। ফেরি চালু হওয়ায় সেই ভোগান্তি কমবে।'








