এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুমোদন
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে এই নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। এতে দেশের ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী আর্থিক সুবিধা পাবেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত ২৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন লাভ করে। এর মাধ্যমে দেশের বেসরকারি শিক্ষা খাতের শিক্ষক ও কর্মচারীরা নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আসার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেলেন।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই নতুন বেতনকাঠামো এ বছরের ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা শুরু হবে। তবে নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এর ভাতাগুলো একযোগে কার্যকর করা হবে। সরকারের এই পদক্ষেপে দেশের শিক্ষক ও কর্মচারী মহলে স্বস্তি নেমে এসেছে।
বাংলাদেশ সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্ত দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠীকে সরাসরি উপকৃত করবে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এই বড় সংখ্যাটি দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
অনুমোদিত এই নতুন কাঠামোর আওতায় বিভিন্ন অধিদপ্তরের অধীনে থাকা শিক্ষক ও কর্মচারীরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে কেবল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনেই রয়েছেন চার লাখ শিক্ষক-কর্মচারী। এ ছাড়া পৌনে দুই লাখের মতো শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে।
অন্যদিকে, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে কর্মরত রয়েছেন ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী। এই সব দপ্তরের অধীনে থাকা বিশাল এই কর্মীবাহিনী নতুন এই বেতনকাঠামোর সুফল ভোগ করবেন। সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলো এই রূপরেখা বাস্তবায়নে নিজেদের প্রস্তুতি শুরু করেছে।
নতুন বেতনকাঠামোয় বেতন ও গ্রেডের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসছে। এই পরিবর্তনের ফলে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে হবে ২০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, সর্বোচ্চ ১য় গ্রেডের বেতন নির্ধারিত ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
তবে এই বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়ে এখনও পুরোপুরি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এবာতে প্রথম আলো পত্রিকার সাথে কথা বলার সময় নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, 'এটা এখন বলতে পারছি না। এ বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত আসবে।' সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন এই বেতনকাঠামো দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।








