উইপ্রোর চাকরি ছেড়ে কৃষিকাজে এসে তাক লাগালেন শশী কুমার
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উইপ্রোর আরামদায়ক চাকরি ছেড়ে কৃষিতে এসে নতুন ইতিহাস গড়েছেন ভারতীয় উদ্যোক্তা শশী কুমার। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘অক্ষয়কল্প’ নামের কৃষি প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা আয় করছে এবং এর সঙ্গে ২৮০০ কৃষক যুক্ত রয়েছেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উইপ্রোর মতো প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ১২ বছর চাকরি করার পর এক অভাবনীয় সিদ্ধান্ত নেন শশী কুমার। আরামদায়ক ও নিশ্চিত সেই পেশা ছেড়ে তিনি সম্পূর্ণ নতুন একটি ক্ষেত্র হিসেবে কৃষিকাজকে বেছে নেন। সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুবাদে তাঁর এই অনুপ্রেরণাদায়ক ও সংগ্রামের পূর্ণাঙ্গ গল্পটি ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে।
শশী কুমারের শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল প্রকৌশলী হিসেবে। তিনি ব্যাঙ্গালুরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.টেক সম্পন্ন করেছিলেন। প্রযুক্তি খাতের পাট চুকিয়ে যখন তিনি কৃষিপণ্যের ব্যবসা ও কৃষকদের সহায়তার মতো ঝুঁকিপূর্ণ খাতে পা রাখেন, তখন তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী। স্ত্রীর ৩০ লাখ রুপির জমানো সঞ্চয়ই ছিল তাঁর এই নতুন যাত্রার প্রাথমিক পুঁজি।
তবে এই পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। বিকাশের দেওয়া এবং এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করা তথ্য অনুযায়ী, শশী কুমার তাঁর উদ্যোগের প্রথম ৯ বছরেই প্রায় ৬ বার এবং সামগ্রिकভাবে প্রায় ১০টি আলাদা সময়ে দেউলিয়া হওয়ার মুখে পড়েছিলেন। ব্যবসায়িক এই চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপের প্রভাব পড়েছিল তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেও। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, তাঁর নিজের বাবার সঙ্গেই প্রায় আট বছর কথা বলা বন্ধ ছিল।
এত প্রতিকূলতা ও পারিবারিক দূরত্বের পরও শশী কুমার তাঁর লক্ষ্য থেকে সরে দাঁড়াননি। তিনি ‘অক্ষয়কল্প’ নামের একটি কৃষি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, যার মূল উদ্দেশ্যই ছিল কৃষকদের প্রকৃত সাহায্য করা এবং তাদের ভাগ্যোন্নয়ন ঘটানো। তাঁর এই সুদূরপ্রসারী ও মানবিক উদ্যোগ আজ অভাবনীয় বাণিজ্যিক সফলতার মুখ দেখেছে।
বর্তমানে শশী কুমারের প্রতিষ্ঠিত ‘অক্ষয়কল্প’ কৃষি প্রতিষ্ঠানটি বছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা আয় করছে। এই প্রতিষ্ঠানটির বিশাল কর্মযজ্ঞের সঙ্গে বর্তমানে সরাসরি ২৮০০ জন কৃষক যুক্ত রয়েছেন। কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে এই প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁদের প্রত্যেককে প্রতি মাসে ১.২৮ লাখ রুপি প্রদান করা হয়।
কৃষক ও উদ্যোক্তাদের কল্যাণে কাজ করে যাওয়া এই প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ভিত্তি এখন অত্যন্ত শক্ত। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই সফল কৃষি প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে প্রতি মাসে ৬০ কোটি রুপি লাভ করে থাকে। উইপ্রোর চাকরি ছেড়ে কৃষিক্ষেত্রে শশী কুমারের এই বিপ্লব আজ ভারতসহ সারা বিশ্বের বহু যুবকের জন্যই এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।








