উইথারস্পুন্সের পাবগুলোতে উচ্চস্বরে গান ও স্পিকারে কল নিষিদ্ধ
যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় পাব ও বার চালনাকারী প্রতিষ্ঠান উইথারস্পুন তাদের প্রতিষ্ঠানে উচ্চস্বরে গান বাজানো এবং স্পিকারে ফোন কল করা নিষিদ্ধ করেছে। ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। গ্রাহকদের স্বস্তি দিতেই এই নতুন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত পাব এবং বার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান উইথারস্পুন একটি নতুন নীতি চালু করেছে। এই নিয়মের অধীনে, প্রতিষ্ঠানটির পাব ও বারগুলোতে গ্রাহকদের উচ্চস্বরে গান বাজানো কিংবা স্পিকারে ফোন কল রিসিভ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত বিবিসি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। মূলত পাবের পরিবেশ শান্ত রাখতে এবং অন্যান্য গ্রাহকদের বিরক্তি দূর করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যজুড়ে উইথারস্পুনের মোট ৭৯২টি পাব ও বার পরিচালিত হচ্ছে। তবে মনে রাখতে হবে যে, ২০১৫ সালের শেষের দিকে এই সংখ্যাটি বেড়ে ৯৫৫টিতে গিয়ে ঠেকেছিল। এই নতুন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি ওই ৭৯২টি স্থানের পাশাপাশি বিশেষ করে সেই ৪৪টি লয়েডস বারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, যেখানে এই চেইনটি সাধারণত সন্ধ্যার সময় গান বাজিয়ে থাকে।
এই নতুন নিয়ম কার্যকর করার বিষয়ে উইথারস্পুনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেউ যদি এই নিয়ম অমান্য করেন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে পাব থেকে চলে যেতে বলা হবে না। তবে সংশ্লিষ্ট ম্যানেজারদের জন্য এটি একটি বিকল্প হিসেবে থাকবে, যদি কেউ বারবার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করতে অস্বীকৃতি জানান। এই বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একটি মন্তব্যও এসেছে যেখানে বলা হয়েছে, গ্রাহকরা যাতে অন্যের তৈরি করা শব্দের কোলাহলে অতিষ্ঠ হয়ে না ওঠেন, সেজন্য ফোন ব্যবহারকারীদের কিছুটা চুপ থাকতে অনুরোধ করা হচ্ছে।
উইথারস্পুনের প্রতিষ্ঠাতা টিম মার্টিন এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে জানিয়েছেন যে, অন্যান্য মানুষের উচ্চস্বরে বাজানো গান এবং শব্দের আধিপত্যের এই বিশ্বে পাবগুলোকে তিনি শান্ত ও ধ্যানের একটি নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে দেখতে চান। অন্যদিকে, ব্রিটিশ বিয়ার অ্যান্ড পাব অ্যাসোসিয়েশনের মতে, একটি পরিষ্কার নীতিমালা থাকলে কর্মীদের জন্য নিয়মগুলো বলবৎ করা সহজ হয় এবং গ্রাহকরাও পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারেন তাদের কী করা উচিত আর কী করা উচিত নয়।
ব্রিটিশ বিয়ার অ্যান্ড পাব অ্যাসোসিয়েশন আরও জানিয়েছে যে, স্পিকারে ফোন কলের শব্দ বা কারো উচ্চস্বরে ভিডিও দেখার পটভূমিতে বসে কেউ বিয়ারের পেয়ালায় চুমুক দিতে পছন্দ করে—এমন কথা এখনও শোনা যায়নি। ফলে এই উদ্যোগটি অত্যন্ত ভালোভাবে গৃহিত হবে বলেই তাদের প্রত্যাশা। ইতিমধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী পাব চেইন স্যাম স্মিথসের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা গেছে যে, তাদের আরও কঠোর এবং দীর্ঘমেয়াদী নীতিমালা রয়েছে, যেখানে যেকোনো ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার এবং গালাগাল করার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
মিচেল ল্যাবিয়াক এই সংক্রান্ত তথ্যাদি সংগ্রহ ও পরিবেশনে ভূমিকা রেখেছেন। এদিকে, ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডনের একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে ৭০ শতাংশ উত্তরদাতা হেডফোন ছাড়া উচ্চস্বরে গান বাজানো এবং ফোন কল করাকে একটি বড় উপদ্রব হিসেবে মনে করেন। এছাড়াও, আগস্ট ২০২২ সালে অফকমের পরিচালিত ১ হাজার ১০ জন মানুষের ওপর এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ৬৯ শতাংশ ভিডিও কল করা, ৭৩ শতাংশ হেডফোন ছাড়া গান শোনা এবং ৮৩ শতাংশ হেডফোন ছাড়া ভিডিও দেখা গ্রহণযোগ্য বলে মনে করে।
সাম্প্রতিক এই নিয়ম জারির পেছনের ব্যবসায়িক পরিস্থিতিও বেশ লক্ষণীয়। জানা গেছে, খাদ্যপণ্য, শ্রমিকদের মজুরি, মেরামত কাজ, শক্তি বা জ্বালানি এবং ব্যবসা সংক্রান্ত বিভিন্ন করের ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে উইথারস্পুনের এ বছরের মুনাফা প্রত্যাশার তুলনায় কম হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।








