ইউএসবি পোর্ট ও কেবলের মান, গতি এবং নামকরণের নির্দেশিকা
ইউএসবি পোর্ট ও কেবলের মান, নাম এবং গতির ইতিহাস নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়েছে। এতে ইউএসবি ২.০ থেকে শুরু করে সর্বশেষ ইউএসবি৪ ২.০ পর্যন্ত বিভিন্ন সংস্করণের ব্যান্ডউইথ ও সংযোগের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

প্রযুক্তির দুনিয়ায় ইউএসবি পোর্ট ও কেবলের মান, নামকরণের নিয়ম এবং গতির তারতম্য ব্যবহারকারীদের জন্য প্রায়ই বিভ্রান্তিকর হয়ে দাঁড়ায়। ইউএসবি ইমপ্লিমেন্টার্স ফোরাম (আইএফ)-এর মানদণ্ড অনুযায়ী, ইউএসবি প্রযুক্তির সূচনা থেকেই এর লোগো হিসেবে পরিচিত ত্রিখণ্ডিত বা ট্রাইডেন্ট লোগোটি ব্যবহার হয়ে আসছে, যা এই স্ট্যান্ডার্ড চালুর সেই নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ থেকে চলে আসছে। সময়ের সাথে সাথে ডেটা আদান-প্রদানের গতি বাড়াতে এবং ব্যবহারকারীদের কাজের অভিজ্ঞতা সহজ করতে ইউএসবি প্রযুক্তিতে একের পর এক নতুন সংস্করণ যুক্ত হয়েছে।
বিবর্তনের এই ধারায় ২০০০ সালে আত্মপ্রকাশ করে ইউএসবি ২.০, যা ৪৮০ এমবিপিএস ব্যান্ডউইথ প্রদান করে থাকে। এরপর ২০০৮ সালে বাজারে আসে ইউএসবি ৩.০, যার ব্যান্ডউইথ ছিল ৫ জিবিপিএস। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে ১০ জিবিপিএস গতি নিয়ে ইউএসবি ৩.১ এবং ২০১৭ সালে ২০ জিবিপিএস গতি নিয়ে ইউএসবি ৩.২ সংস্করণ বাজারে ছাড়া হয়। তবে ২০২২ সাল নাগাদ এসে এসব সংস্করণের নামকরণের ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম স্থির করা হয়, যেখানে এদের যথাক্রমে ইউএসবি ৫জিবিপিএস, ইউএসবি ১০জিবিপিএস এবং ইউএসবি ২০জিবিপিএস হিসেবে অভিহিত করা শুরু হয়।
বিভিন্ন গতির এই ইউএসবি পোর্টগুলো চেনার জন্য রঙের ব্যবহারেও ভিন্নতা রাখা হয়েছে। সাধারণত ইউএসবি ২.০ সংযোগের ক্ষেত্রে কালো বা সাদা রং ব্যবহার করা হয়, অন্যদিকে ইউএসবি ৫জিবিপিএস সংযোগ বোঝাতে সাধারণত নীল রঙের উপস্থিতি দেখা যায়। এছাড়া লাল রঙের পোর্টগুলো সাধারণত ইউএসবি ১০জিবিপিএস অথবা ইউএসবি ২০জিবিপিএস নির্দেশ করে এবং মজার বিষয় হলো, কম্পিউটার বন্ধ থাকা অবস্থাতেও এই লাল পোর্টগুলো সাধারণত পাওয়ার বা বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে।
ডেটা স্থানান্তরের গতির দিক দিয়ে সংস্করণভেদে আকাশ-পাতাল ব্যবধান লক্ষ্য করা যায়। এনগ্যাজেট ও গেটি ইমেজেস বা শাটারস্টকের তথ্য এবং প্রযুক্তিগত মানদণ্ড অনুযায়ী, ১০০ গিগাবাইট ডেটা স্থানান্তর করতে ইউএসবি ২.০ এর যেখানে ২৮ মিনিট সময় লাগে, সেখানে ৫ জিবিপিএস গতির ইউএসবি সংস্করণে সময় লাগে মাত্র ২ মিনিট ৪০ সেকেন্ড। আর সর্বাধুনিক ইউএসবি৪ প্রযুক্তির মাধ্যমে একই পরিমাণ ডেটা স্থানান্তর করতে সময় লাগে মাত্র ২০ সেকেন্ড, যা কাজের গতিকে বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইউএসবি প্রযুক্তির সর্বশেষ সংযোজন হলো ইউএসবি৪, যার মূল সংস্করণটি ২০১৯ সালে বাজারে এসে ২০ জিবিপিএস অথবা ৪০ জিবিপিএস গতি প্রদান করতে সক্ষম হয়। এর ঠিক পরে ২০২২ সালে আসে ইউএসবি৪ ২.০, যা অবিশ্বাস্যভাবে ৮০ জিবিপিএস থ্রুপুট বা গতি হ্যান্ডেল করতে পারে। উল্লেখ্য যে, এই ইউএসবি৪ মানটি সম্পূর্ণভাবে ইউএসবি-সি কানেক্টরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে, যা একে আগের চেয়ে আরও বেশি সুসংহত করেছে।
ইউএসবি-সি কানেক্টরের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত রয়েছে থান্ডারবোল্ট প্রযুক্তিও। থান্ডারবোল্ট ৩ এবং এর পরবর্তী সংস্করণগুলোতেও ইউএসবি-সি কানেক্টর ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ করে থান্ডারবোল্ট ৪ ডিভাইসের ক্ষেত্রে একটি আবশ্যকীয় শর্ত রাখা হয়েছে যে, এই ডিভাইসগুলোকে অবশ্যই এক সাথে দুটি ফোরকে ডিসপ্লেতে আউটপুট দেওয়ার ক্ষমতা রাখতে হবে।








