আজমিরীগঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান, খসে পড়ছে পলেস্তারা
আজমিরীগঞ্জ উপজেলার দিগলবাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে আতঙ্ক নিয়ে ক্লাস করছে ১০৮ জন শিক্ষার্থী। ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছরে নির্মিত এই ভবনের ছাদ ও দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং পলেস্তারা খসে পড়ছে। কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন করা হলেও এখনো নতুন ভবন নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বদলপুর ইউনিয়নের দিগলবাক গ্রামে অবস্থিত দিগলবাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির ভবন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যালয়টির ছাদ ও দেয়ালে ফাটল দেখা দেওয়ার পাশাপাশি পলেস্তারা খসে পড়ছে। এমন একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোমলমতি শিশুরা ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দিগলবাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছরে তিনটি শ্রেণিকক্ষ ও একটি অফিস কক্ষ নিয়ে নির্মিত হয়েছিল। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের পর থেকে দীর্ঘ বছর পেরিয়ে গেলেও এর অবকাঠামোগত উন্নয়নের কোনো বড় কাজ হয়নি।
বর্তমানে এই বিদ্যালয়টিতে মোট ১০৮ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে এবং তাদের পাঠদান করানোর জন্য চারজন শিক্ষক রয়েছেন। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন একই ছাদের নিচে চরম আতঙ্ক ও শঙ্কার মধ্যে অবস্থান করেন, কারণ যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়ে গেছে।
বিদ্যালয়টির এই বেহাল দশা নিয়ে প্রধান শিক্ষক কাকুলী রানী চৌধুরী উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের ভবনটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিটি রুমেই পলেস্তারা খসে পড়ে। যে কারণে শিক্ষার্থীসহ তারা সব সময় আতঙ্কে থাকেন। তিনি আরও জানান, বৃষ্টির দিনে এখন রুমে ক্লাস করানোই দায় হয়ে দাঁড়ায়।
প্রধান শিক্ষক কাকুলী রানী চৌধুরী আরও উল্লেখ করেন যে, বিদ্যালয়ের এমন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে কোমলমতি শিশুরা পড়াশোনায় তাদের মনোযোগ হারাচ্ছে। অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যেও এই পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রমেন্দ্র চন্দ্র চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গত কয়েক বছর ধরে নতুন ভবনের জন্য আবেদন করা হচ্ছে কিন্তু কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। তিনি দ্রুত বিদ্যালয়টি নতুনভাবে নির্মাণ না করা হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন।
এদিকে সার্বিক এই পরিস্থিতি সম্পর্কে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে আগেই চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নতুন ভবনের কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা চরম ভোগান্তি ও ঝুঁকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।








