আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ শতাংশ বাড়ছে বেকারি পণ্যের দাম
কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বেকারি পণ্যের দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

দেশের বাজারে সব ধরনের বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি। সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বেকারি পণ্যের দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হবে। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাধ্য হয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান বাজারে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় ও বেকারি পণ্যের মূল উপাদানগুলোর দাম অনেক আগেই বেড়ে গেছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী দেশের বাজারে খোলা ময়দার দাম ৮ শতাংশ বেড়ে বর্তমানে প্রতি কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি প্যাকেট ময়দার দাম ১০ দশমিক ১৯৭১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭০ থেকে ৮৫ টাকা এবং সাদা আটার দাম ৩ দশমিক ১৬ শতাংশ বেড়ে ৪৮ থেকে ৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
এছাড়াও রান্নার কাজে ব্যবহৃত তেলের বাজারেও বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। টিসিবির তথ্য অনুসারে, খোলা সয়াবিন তেলের দাম ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি লিটার ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং খোলা পাম অয়েলের দাম ২ শতাংশ বেড়ে ১৬৫ থেকে ১৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে চিনির দাম ৪ দশমিক ১৯৬৫ শতাংশ বেড়ে ১১০ থেকে ১১৫ টাকা এবং ছোলার দাম ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়ে ১০০ থেকে ১১০ টাকায় পৌঁছেছে।
বেকারি পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত অন্যান্য উপকরণের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর মধ্যে মসুর ডালের দাম ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৯৫ থেকে ১০৫ টাকা হয়েছে। এছাড়া লেয়ার মুরগির ডিমের দাম হালিতে ৩ থেকে ৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৫০ থেকে ৫২ টাকায় ঠেকেছে। চা পাতার বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে, যেখানে প্রতি কেজি চায়ের দাম ২০ টাকা বেড়ে মানভেদে ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি গুঁড়া দুধের দাম প্রতি কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ৭০০ থেকে ৯৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
এসব কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারণে বেকারি পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। ফলে আগের দামে পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে বাড়তি দামে মাল দেব। সরকার যদি আমাদের সহযোগিতা না করে তাহলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পথে বসে যাবে।
মূল্যবৃদ্ধির এই চাকা সচল রাখতে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের টিকে থাকার স্বার্থেই মূলত পণ্যের দাম বাড়ানোর এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে নির্ধারিত এই দাম কার্যকর হওয়ার পর সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি খরচের চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।








