অস্ট্রেলিয়া সফরে টেস্ট সিরিজ শেষে র্যাঙ্কিংয়ে ষষ্ঠ স্থানে বাংলাদেশ
অস্ট্রেলিয়া সফরে দ্বিতীয় টেস্টে দুই দিনের মধ্যে ইনিংস ও ৫১ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। তবে ঐতিহাসিক সিরিজটিতে নিজেদের মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে টাইগাররা।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

অস্ট্রেলিয়া সফরে টেস্ট সিরিজে অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অনুষ্ঠিত এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজে বাংলাদেশ দল বেশ কিছু স্মরণীয় সাফল্য ও হতাশার মুখোমুখি হয়। সিরিজটির বিভিন্ন পর্যায়ে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়েরা মাঠে নিজেদের প্রতিভা প্রদর্শনের চেষ্টা করেন। দলীয় এই লড়াইয়ে শামসুল হক, শরীফুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও তানজিদসহ অন্যান্যরা দলের অংশ ছিলেন।
এই সফরে বাংলাদেশ দল একটি বড় ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশ দল অস্ট্রেলিয়া সিরিজে নিজেদের মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ের ইতিহাস গড়েছে। সিরিজজুড়ে সফরকারী দল হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে লড়াই করা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল, যা শেষ পর্যন্ত টেস্টের ফলেও প্রতিফলিত হয়েছে। তবে এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের অবস্থানের আরও উন্নতি করেছে।
সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশ দল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশ দুই দিনের মধ্যেই ইনিংস ও ৫১ রানে হেরেছে। এই ম্যাচে স্বাগতিক দলের শক্তিশালী বোলিং ও ব্যাটিং লাইনআপের সামনে টিকতে পারেনি বাংলাদেশ দল, যার ফলে ম্যাচের মীমাংসা খুব দ্রুতই হয়ে যায়।
দ্বিতীয় টেস্টের দুই ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয় প্রকট হয়ে ওঠে। ম্যাচের প্রথম ও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে দল বড় সংগ্রহ গড়তে ব্যর্থ হয়। দ্বিতীয় টেস্টের দুই ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল যথাক্রমে ৬৪ ও ৯৫ রান। এই স্বল্প পুঁজি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব হয়নি।
ম্যাচটিতে বাংলাদেশের ব্যাটাররা বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হলেও ব্যক্তিগত কিছু চেষ্টা দেখা যায়। দ্বিতীয় টেস্টে নাজমুল হোসেন শান্ত ৩১ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়া দলের অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম এই ইনিংসে ২৯ রান অবদান রাখেন। দলের অন্য ব্যাটাররাও ক্রিজে টিকে থাকার চেষ্টা করলেও স্বাগতিক বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে তারা বড় রান তুলতে পারেননি।
ব্যাটিংয়ে বিপর্যয় ঘটলেও বাংলাদেশ দলের বোলিং বিভাগ এই টেস্টে দারুণ একটি রেকর্ড গড়েছে। দ্বিতীয় টেস্টে শরীফুল ইসলাম বল হাতে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। তিনি মাত্র ৪৮ রান খরচ করে ৭ উইকেট শিকার করেন, যা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের কোনো বোলারের সেরা ইনিংস বোলিং। তার এই অসামান্য বোলিং পারফরম্যান্স অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের বড় সংগ্রহ গড়ার পথে বাধা সৃষ্টি করেছিল।
অস্ট্রেলিয়া সফর ও এই টেস্ট সিরিজ শেষে বাংলাদেশ দলের জন্য একটি বড় প্রাপ্তি যুক্ত হয়েছে। সিরিজ শেষে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে। সামগ্রিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে পাওয়া এই সাফল্য বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল।








