অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে শরিফুলের ইতিহাস গড়া ৭ উইকেট
অস্ট্রেলিয়ার ম্যাকাইতে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ৪৮ রানে ৭ উইকেট শিকার করেছেন শরিফুল ইসলাম। ৩৩ বছর পর কোনো সফরকারী বোলার হিসেবে অজি মাটিতে এক টেস্টে ৭ উইকেট নিয়ে বিরল রেকর্ড গড়েছেন এই বাংলাদেশি পেসার।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজের প্রথম টেস্ট খেলতে নেমেই ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশি পেসার শরিফুল ইসলাম। ম্যাকাইতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্য প্রদর্শন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন পুরো ক্রিকেট বিশ্বে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং করে স্বাগতিক দলটিকে বড় সংগ্রহের আগেই থামিয়ে দিয়েছেন তিনি।
ম্যাচটির দ্বিতীয় দিনে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের পুরো সময়জুড়ে ত্রাস ছড়িয়েছেন শরিফুল ইসলাম। তার বিধ্বংসী বোলিংয়ের মুখে পড়ে অস্ট্রেলিয়া দল মাত্র ২১০ রান সংগ্রহ করতেই তাদের সব উইকেট হারিয়ে অলআউট হয়ে যায়। এই ইনিংসে শরিফুলের ব্যক্তিগত বোলিং ফিগার ছিল অত্যন্ত নজরকাড়া, যেখানে তিনি মাত্র ৪৮ রান খরচ করে তুলে নেন ৭টি উইকেট।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শরিফুল ইসলামের এই কীর্তি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। পরিসংখ্যান বলছে, দীর্ঘ ৩৩ বছর পর শরিফুলই প্রথম কোনো সফরকারী বোলার, যিনি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটের এক ইনিংসে ৭টি উইকেট শিকার করার গৌরব অর্জন করলেন। এর আগে সবশেষ ১৯৯৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি পেসার কার্টলি অ্যামব্রোস পার্থের ওয়াকায় ২৫ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে এই অসাধারণ সাফল্য বিদেশের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে কোনো বাংলাদেশি বোলারের জন্যও সেরা বোলিং ফিগার। একই সঙ্গে এটি শরিফুল ইসলামের টেস্ট ক্যারিয়ারেরও সেরা বোলিং পারফরম্যান্স। অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে এমন কীর্তি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অর্জন হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।
এর আগে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে বিপর্যয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ দল। প্রথম ইনিংসে পুরো দল মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয়ে যায়। সেই কঠিন সময়ে দলের পক্ষে ব্যাট হাতে লড়াই করে ১৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন শরিফুল ইসলাম, যা দলের ইনিংসে কিছুটা হলেও অবদান রেখেছিল।
বল হাতে শরিফুলের এই বিধ্বংসী রূপ কেবল তার ব্যক্তিগত অর্জনকেই উঁচুতে তুলে ধরেনি, বরং বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের পেস বোলিং শক্তির এক নতুন বার্তাও দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ভবিষ্যতে বাংলাদেশি পেসারদের আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।








