অশোকনগরে শুরু হলো বাণিজ্যিক তেল উত্তোলন
পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অশোকনগরে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বাণিজ্যিকভিত্তিতে অপরিশোধিত তেল উত্তোলন। প্রথম দফায় ১২ হাজার লিটার তেল উত্তোলন করা হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ভারতের তেল মানচিত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে স্থান পেল পশ্চিমবঙ্গ। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অশোকনগরের বাইগাছিতে শুরু হয়েছে বাণিজ্যিকভিত্তিতে অপরিশোধিত তেল উত্তোলন। এই বাণিজ্যিক তেল উত্তোলনের ফলে দেশের জ্বালানি খাতের মানচিত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
ওএনজিসি বা অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস করপোরেশনের এই প্রকল্প থেকে প্রথম দফায় প্রায় ১২ হাজার লিটার অপরিশোধিত তেল উত্তোলন করা হয়েছে। উত্তোলিত এই তেল পরবর্তীতে ট্যাংকারে করে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে শোধনের উদ্দেশ্যে।
জানা গেছে, ভূগর্ভের প্রায় ২ হাজার ৩৯৬ মিটার গভীরতা থেকে এই অপরিশোধিত তেল উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির শুরুতে মোট ছয়টি কূপ খনন করা হয়েছিল, যার মধ্যে চারটি তেল উত্তোলনের জন্য এবং দুটি গ্যাস উত্তোলনের জন্য নির্ধারিত রয়েছে।
২০২৬ সালের ৩০ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে এই তেল উত্তোলনের উদ্বোধন করেন ওএনজিসির পরিচালক ওমপ্রকাশ সিনা এবং বিধায়ক সুময় হীরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও দেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে ওএনজিসির পরিচালক ওমপ্রকাশ সিনা বলেন, বছর তিনেক আগে পরীক্ষামূলকভাবে উত্তোলন করা হয়েছিল। তখন কিছু সমস্যার চিহ্নিত হয়। বর্তমানে বাইগাছি থেকে যে তেল পাওয়া যাচ্ছে, তার গুণমান আগের তুলনায় ভালো। বর্তমানে দেশের প্রয়োজনীয় তেলের ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ এবং গ্যাসের ক্ষেত্রে প্রায় ৫০ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আগামী দিনে সেই নির্ভরতা যতটা সম্ভব কমিয়ে দেশের মাটিতেই তেল ও গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোই লক্ষ্য।
অন্যদিকে, বিধায়ক সুময় হীরা তাঁর বক্তব্যে বলেন, ওএনজিসির উত্তোলন করা তেল শোধনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই তেল উত্তোলনের ফলে অশোকনগর ও সংলগ্ন অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হবে এবং বেশ কিছু কর্মসংস্থানের পথও খুলবে। আগে যে সমস্যাগুলো দেখা দিয়েছিল, সেগুলির সমাধান করে ফের তেল উত্তোলনের কাজ শুরু হয়েছে।
২০১৯ সালের পর দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও সাম্প্রতিক নানা প্রস্তুতি পেরিয়ে ২০২৬ সালে এসে এই বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলো। সংশ্লিষ্ট মহl মনে করছে, অশোকনগরের এই প্রকল্পের সফল রূপায়ণ স্থানীয় অঞ্চলের উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।








