অভিনয়ে ফিরছেন সুমাইয়া শিমু, পডকাস্টে শেয়ার করলেন জীবনের গল্প
সম্প্রতি এক পডকাস্টে ব্যক্তিগত জীবন, বাবা-মা এবং অভিনয়ে ফেরা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুমাইয়া শিমু। এ সময় তিনি মা লায়লা রহমান ও প্রয়াত বাবা আতিয়ার রহমানের স্মৃতিচারণ করেন। পাশাপাশি মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের পরিচালনায় নতুন নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে কাজে ফেরার কথাও জানান তিনি।
প্রকাশ: · আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ৩:৫৫· ১ মিনিট পড়া

জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুমাইয়া শিমু সম্প্রতি এক পডকাস্টে অংশ নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত জীবন, বাবা-মা এবং অভিনয়ে প্রত্যাবর্তন নিয়ে নানা কথা শেয়ার করেছেন। বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের এই পরিচিত মুখ দীর্ঘদিন পর আবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়াচ্ছেন। তার এই ফেরা নিয়ে ভক্তদের মাঝেও বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পডকাস্টে তিনি তার জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন।
কাজের ফেরার বিষয়ে সুমাইয়া শিমু জানিয়েছেন, তিনি খুব শীঘ্রই অভিনয়ে ফিরছেন। মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের পরিচালনায় 'ফিরে আসার গল্প' নামের একটি নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি আবারও নিয়মিত কাজে ফিরছেন। তার এই নতুন কাজটি দেখার জন্য দর্শক ও অনুরাগীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। দীর্ঘ বিরতির পর তার এই কামব্যাক নাট্যাঙ্গনে বেশ সাড়া ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ব্যক্তিগত জীবনে সুমাইয়া শিমু ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে নজরুল ইসলামের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পরবর্তী সময়ে মাতৃত্বের স্বাদও গ্রহণ করেন এই অভিনেত্রী। দীর্ঘ আট বছর পর ২০২৩ সালে তিনি যমজ সন্তানের মা হন। বর্তমানে তিনি তার সন্তানদের লালন-পালন ও সংসার সামলানোর পাশাপাশি নিজের পেশাগত জীবনকেও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
অনুষ্ঠানে নিজের মা লায়লা রহমান সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে সুমাইয়া শিমু আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। মায়ের অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, যেকোনো সন্তানের জন্য মা যে কত বড় সম্পদ, তা সন্তানই জানেন। আম্মার বয়স যখন আরো কম ছিল, তখনো উনি যেভাবে যত্ন করতেন, এখন উনার অনেক বয়স হয়ে গেছে। আগের মতো কাজ করতে পারেন না। কারণ শারীরিকভাবে আগের সেই সক্ষমতা অনেকটা কমে গেছে। তারপরও এখনো চেষ্টা করেন। আমি এখন মা হয়েছি, খাবার নিয়ে আমি আমার বাচ্চাদের পেছনে দৌড়াচ্ছি, কিন্তু আমার মা খাবার নিয়ে আমার পেছনে দৌড়ান।
মায়ের পাশাপাশি বাবা আতিয়ার রহমানের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শিমু জানান বাবাকে তিনি কতটা মিস করেন। বাবার মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাবাকে প্রতি মুহূর্তে মনে পড়ে। বাবা যখন মারা যান, তখন আমি একটা নতুন জীবনে পা রেখেছি, মানে আমার মাত্র বিয়ে হয়েছে, তখন বিয়ের বয়স কয়েক মাস। বাবার অসুস্থতার কারণে আমার বিয়েটা তাড়াহুড়া করে হয়েছে।
বাবার চলে যাওয়ার মুহূর্তগুলোর স্মৃতিচারণ করে এই অভিনেত্রী আরও বলেন, রাস্তা দিয়ে একটা অ্যাম্বুলেন্স গেলেই বাবার কথা মনে পড়ে। কারণ শেষবার যে অ্যাম্বুলেন্সে বাবা গেলেন, তারপর আর জীবত অবস্থায় ফেরত আসেন নাই। যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, সেই হাসপাতালের পাশ দিয়ে নিয়মিত আসা-যাওয়া করছি। পাসপাতালের সামনে দিয়ে যখন যাই, তখন বাবার মুখটা মনে পড়ে।
সব মিলিয়ে ব্যক্তিজীবনের নানা চড়াই-উতড়াই, সুখ-দুঃখ এবং আনন্দময় স্মৃতির পাশাপাশি পেশাগত জীবনের নতুন অধ্যায় নিয়ে সুমাইয়া শিমুর এই পডকাস্ট আলোচনাটি ভক্তদের হৃদয়ে গভীর দাগ কেটেছে। মা-বাবার প্রতি তার ভালোবাসা এবং অভিনয়ে ফিরে আসার এই যাত্রার মধ্য দিয়ে তিনি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন।








