অচল সরকারি শিল্পকারখানার অব্যবহৃত জমিতে নতুন বিনিয়োগের উদ্যোগ
রুগ্ণ ও অচল রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জমি এবং স্থাপনা নতুন বিনিয়োগের আওতায় আনতে একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এই খসড়ার ওপর নিজেদের মতামত জানাতে পারবেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

দেশের রুগ্ণ বা অচল সরকারি শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জমি এবং স্থাপনা নতুন বিনিয়োগের আওতায় আনতে একটি নতুন খসড়া নীতিমালা তৈরি করেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। মূলত দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা সরকারি এসব সম্পদকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই খসড়া নীতিমালা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় এবং অংশীজনদের কাছ থেকে মতামত আহ্বান করা হয়।
ঘোষিত সময়সীমা অনুযায়ী, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যে কেউ এই খসড়া নীতিমালার ওপর নিজেদের সুচিন্তিত মতামত বা পরামর্শ প্রদান করতে পারবেন। এর আগে গত ১২ জুলাই ও ১৮ আগস্ট এই বিষয়ে পূর্ববর্তী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং মতামত আহ্বান করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট মহл মনে করছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অংশীজনদের মতামত পাওয়ার পর নীতিমালার চূড়ান্ত রূপ দিতে সুবিধা হবে।
নতুন এই খসড়া নীতিমালায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সম্পদ হস্তান্তরের জন্য মোট ৫টি সমন্বিত ধাপের প্রস্তাব করা হয়েছে। ধাপগুলো হলো—সম্পদ শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ, দরপত্র আহ্বান, চুক্তি সম্পাদন এবং সবশেষে পুরো প্রক্রিয়াটির পরিবীক্ষণ। এই ৫টি সুনির্দিষ্ট ধাপ অনুসরণ করেই অচল শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জমি ও স্থাপনা নতুন বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য নীতিমালায় একটি বিশেষ উৎসাহব্যঞ্জক প্রস্তাব রাখা হয়েছে। কোনো বিনিয়োগকারী যদি নিজ উদ্যোগে বা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কোনো বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে আসেন, তবে পরবর্তীতে উন্মুক্ত দরপত্রে মূল্যায়িত স্কোরে তিনি অতিরিক্ত ৭ শতাংশ বোনাস স্কোর লাভ করবেন। এই বিধানটি নতুন বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অচল শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সম্পদ বিক্রি বা হস্তান্তরের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হবে, তারও সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে নীতিমালায়। সম্পদ বিক্রি বা হস্তান্তর থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে প্রথমে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা ও পেনশন মিটিয়ে দেওয়া হবে। এরপর সমুদয় প্রক্রিয়ার পর অবশিষ্ট অংশ সরকারের কোষাগারে জমা করা হবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ) একীভূত হয়ে গত ২৩ আগস্ট ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ নামে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন পরিচালিত হচ্ছে এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে। প্রথম আলোসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই খসড়া নীতিমালার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।








